হাইমচরে অভিযানে হামলার ঘটনায় দেড়শ’ জনের বিরুদ্ধে মামলা


স্টাফ রিপোর্টার
হাইমচর ইউনিয়নের চর এ্যালটম্যান এলাকার গুচ্ছ গ্রামে ইলিশ উদ্ধারের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় গত রোববার মামলা হয়েছে। নীলকমল নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শফিউল্লাহ্ বাদী হয়ে হাইমচর থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেন।
এতে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। হামলা ও ছিনতাইয়ের অপরাধে স্থানীয় লোকজন আজগর সরদার (৩০) কে আটক করে। ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ছিনতাই হওয়া ব্যাগ ও দু’টি মোবাইল আজগরের কাছ থেকে জব্দ করা হয়।
জানা যায়, গত শনিবার রাত ৯টায় হাইমচর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসি বেগম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাইমচর ইউনিয়নের গুচ্ছ গ্রামে অভিযান পরিচালনা চালায়। গুচ্ছ গ্রামে একাধিক ঘরে তল্লাশি করে প্রায় ২ লক্ষাধিক মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধার করে। পার্শ্ববর্তী ঘরে তালাবন্দী ইলিশ মাছের সন্ধান পেলে তা জব্দ করেন। এ সংবাদ গুচ্ছ গ্রামের জেলেদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। জেলে ও অসাধু মাছ ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে প্রশাসনের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে হাইমচর ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা।
জানা যায়, অভিযানে যাওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একা রেখে নৌ-পুলিশ সদস্যরা পালিয়ে যায়। নৌ-পুলিশ সদস্যদের কাছে পর্যাপ্ত বুলেট তো দূরের কথা রাবার বুলেটও ছিলো অল্পসংখ্যক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গুলির আদেশ দিলেও তারা গুলি করতে পারেনি। অপরদিকে হাইমচর থানা পুলিশ ঐ অভিযানে অংশই নেয়নি। এতে সচেতন মহলের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ধরনের অভিযানে অংশ নেয়া প্রধান ব্যক্তিকে ফেলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী চলে আসায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানানো হয়।
গত রোববার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।
গতকাল সোমবার রাতে এ ব্যাপারে জানতে হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জের সরকারি নম্বরে ফোন দিলে তিনি ফোন ধরেননি।