হাজীগঞ্জে টিআই’র প্রচেষ্টায় এবার চালু হলো বাস-বে

 

যানজট নিরসন ও পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) মো. জাহাঙ্গীর আলমের প্রচেষ্টায় এবার চালু হলো বাস-বে (বাস স্ট্যান্ড)। অথচ নির্মাণের পর থেকেই প্রায় একযুগ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিলো এই বাস-বে। সম্প্রতি হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্থ চৌ-রাস্তার পূর্ব পাশে অবস্থিত এই বাস-বে থেকে বোগদাদ, বাগদাদ ও রিলাক্স পরিবহনসহ সব লোকাল যাত্রীবাহী বাস থেকে যাত্রী উঠা-নামা করে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার ফলে বিভিন্ন পরিবহনের দখলে ছিলো বাস-বে’র সড়কের পাশের অংশ। এতে করে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকৃত বোগদাদ, বাগদাদ ও রিলাক্সসহ লোকাল রুটের বিভিন্ন যাত্রীবাহী পরিবহন বাজারের রাজা লক্ষ্মী নারায়ন জিউর আড়খার সামনে যাত্রী উঠা-নামা করতো। যা বাজারের যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত ছিলো।
অবশেষে বাস-বে’র সড়কের পাশের অংশ অবৈধ দখলমুক্ত করেন ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি হাজীগঞ্জ পৌরসভার সহযোগিতা নিয়ে ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করেন এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে বাস-বে’র অসমতল স্থানে ইট-বালু দিয়ে ভরাট করেন। এরপর রোববার থেকে বোগদাদ, বাগদাদ ও রিলাক্স পরিবহনসহ সব লোকাল যাত্রীবাহী সেখানে স্ট্যান্ড করে যাত্রী উঠা-নামা শুরু করে।
এদিকে এই বাস-বে চালু হওয়ায় বাজারের যানজট নিরসন ও পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলে অনেকটা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয় ও এলাকাবাসী মনে করেন। টিআই মো. জাহাঙ্গীর আলমের এমন প্রশংসনীয় কাজের জন্য সাধুবাদ জানান তারা। ইতিমধ্যে টিআই’র বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুফল ভোগ করছেন হাজীগঞ্জবাসী। বাজারের ভয়াবহ যানজট অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
যাত্রীদের নির্দিষ্ট স্থান থেকে বাসে উঠা-নামা করার অনুরোধ জানিয়ে ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরিবহন চালক ও শ্রমিক এবং যাত্রী সাধারণের সার্বিক সহযোগিতা থাকলে সড়কের বিশেষ করে বাজারের একটি শৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে।
তিনি আরো বলেন, নির্মাণে পরিকল্পনাজনিত ত্রুটির কারণে বাস-বে’র ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তাই বাস-বে আবার নির্মাণের জন্য সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী ও হাজীগঞ্জ উপ-সহকারী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি। যার ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে আমি যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।
উল্লেখ্য, ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলমের কঠোর পরিশ্রম ও বেশ কয়েকটি প্রশংসনীয় উদ্যোগের ফলে হাজীগঞ্জ বাজারের যানজট অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি হাজীগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই বাজারের যানজট ও পথচারীদের চলাচলের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যার মধ্যে কয়েকটা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আবার কিছু কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এর মধ্যে অন্যতম হলো, হাজীগঞ্জ বাজারে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে স্থায়ী ব্যবসায়ী ও হকারদের কাছ থেকে ফুটপাত দখল মুক্তকরণ। হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সম্মুখে কলেজ গেইট ও আমিন রোডের (থানা রোড) সম্মুখে মৈত্রি শিশু উদ্যান ও জুনিয়র হাই স্কুলের গেইট গলির মুখ ও সড়ক সড়কের পাশ থেকে নিরাপদ দূরত্বে স্থাপন। পূর্ব বাজারস্থ আমিন রোডের পূর্বপাশ থেকে অবৈধ ও দখলকৃত স্থায়ী অটোরিক্সা ও সিএনজি স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে তাদের বিকল্প ব্যবস্থাকরণ।
প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বাজারের মেইন রোডে (কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক) ডেলেভারী ভ্যান বা পিকআপ থেকে মালামাল আনলোড বন্ধ করে তাদেরকে নির্দিষ্ট সময়ে মালামাল আনলোডের নির্দেশনা দিয়েছেন টিআই জাহাঙ্গীর আলম। তিনি তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে সড়কের পাশে অবস্থিত বেশ কয়েকটি খানাখন্দ (গর্ত) ভরাট এবং অসমতল অংশকে ইট ও সিমেন্ট-বালু দিয়ে ঢালাই করে দিয়েছেন।
এছাড়া টিআই জাহাঙ্গীর আলম হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে অবস্থিত বাস-বে আবারো নির্মাণের জন্য সড়কের নির্বাহী প্রকৌশলী ও হাজীগঞ্জ উপ-সহকারী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনী পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন তিনি।
কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষে এবং সড়কের উপরে অবস্থিত পল্লী বিদ্যুতের পিলার নিরাপদ দূরত্বে স্থাপনের জন্য চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাথে কথা বলেছেন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনী পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন জাহাঙ্গীর আলম।
ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে হাজীগঞ্জে যোগদান করেন। তার এই প্রশংসনীয় কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উপজেলার সর্বস্তরের লোকজন।
১১ মার্চ, ২০২১।