হাজীগঞ্জ ব্যুরো
হাজীগঞ্জে প্রেমিক রাজন মাঝির দেখা না পেয়ে ভৈরবে ফিরে গেলেন অনশনকারী মৌসুমী আক্তার নামের ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সেই তরুণী। দুই পরিবারের মৌখিক সমঝোতায় অনশন ভেঙে তিনি রোববার (১০ অক্টোবর) সকালে নিজ বাড়ি ভৈরবে ফিরে গেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন গাজী।
এর আগে স্বামীর দাবিতে শনিবার সকাল থেকে ওই ইউনিয়নের নাটেহরা গ্রামের মাঝি বাড়িতে অনশন শুরু করে মৌসুমী আক্তার। প্রেমিকার উপস্থিতি টের পেয়ে প্রেমিক রাজন মাঝি (২৫) পালিয়ে যান। সে ওই বাড়ির লালু মাঝির ছেলে। মৌসুমী আক্তার ও রাজন মাঝি পরস্পর চাচাতো-জেঠাতো ভাই বোন। বেশ কয়েক বছর আগে মেয়েটির বাবা সপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ভৈরবে বসবাস শুরু করেন।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, নাটেহরা গ্রামের মাঝি বাড়ির লালু মাঝি ও নজরুল মিয়া (নও-মুসলিম) আপন ভাই। নজরুল মিয়া বেশ কয়েকবছর আগে সপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হাজীগঞ্জ থেকে ভৈরবে চলে যান। বর্তমানে তারা ভৈরবেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সেখানেই জেঠাতো ভাই রাজন (প্রেমিক) ভৈরবে চাকরির সুবাদে গেলে চাচাতো বোন মৌসুমী আক্তারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অনশনকারী তরুণী সংবাদকর্মীদের জানান, মুঠোফোনে এক প্রবাসীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তার চাচাতো ভাই রাজন মাঝি চাকরির সুবাদে ভৈরবে থাকাকালীন সময়ে তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য এবং গোপনে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ধারণ করে রাজন।
তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, ওই ছবি তার প্রবাসী স্বামীকে পাঠিয়ে দেয় এবং তাদের প্রেম ও শারীরিক সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেয় সে। বিষয়টি জানতে পেরে প্রবাসী স্বামী তার সঙ্গে বিবাহ-বিচ্ছেদ করে।
এ বিষয়ে তরুণীর বড়বোন তাসলিমা বেগমের স্বামী মাছুম জানান, ভুক্তভোগীকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে সর্বনাশ করেছে রাজন মাঝি। আমরা তার সুষ্ঠু সমাধান পেতে হাজীগঞ্জে এসেছি। এদিকে আমরা হাজীগঞ্জে আসার খবর জানতে পেরে রাজন মাঝি আত্মগোপনে চলে যায়।
রাজনের মা শিখা রানী বলেন, দুই মাস আগে আমরা ঘটনা জানতে পেরেছি। এখন ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন সেই সিদ্ধান্তই আমরা মেনে নেব।
ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন গাজীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, হিন্দু-মুসলিম হলেও তারা পরস্পর আপনজন। তাই দুই পরিবার মৌখিকভাবে সমঝোতা করেছে। যার ফলে মেয়েটি সকালে ভৈরবে চলে গেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি শুনেছি ও জানতে পেরেছি ছেলের পরিবার মেয়েটিকে ৩০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছে। কিন্তু মেয়েটি সেই টাকা নেয়নি। পরবর্তীতে তাদের উভয় পরিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মেয়েটি সন্তান প্রসব করুক। পরবর্তীতে উভয় পরিবার বসে বিষয়টি সমাধান করবেন।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ বলেন, তরুণীর অনশনের কথা শুনেছি। তবে সে অন্তঃসত্ত্বা কিনা, বলতে পারবো না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থানায় অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
১১ অক্টোবর, ২০২১।
