কঠোর লকডাউন উপেক্ষা করে হাইমচরে গরুর বাজারে মিলন মেলা

স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশে চলছে কঠোর লকডাউন। আর এ লকডাউন সময়ে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হাইমচরের ৩টি বাজারে সপ্তায় ৩ দিন বসে গরুর হাট। শত-শত ক্রেতা-বিক্রেতার অংশগ্রহণে গরুর হাট-বাজার যেন মিলন মেলায় পরিণত হয়। কঠোর লকডাউনে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যানবাহন বন্ধ রেখে গরুর হাট-বাজার খোলা রাখায় সাধারণ মানুষজনের মাঝে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
জানা যায়, প্রতি সপ্তায় বৃহস্পতিবার হাইমচর বাজার, শনিবার বাংলা বাজার ও বুধবার সাহেবগঞ্জ বাজারে বসে গরুর হাট। এসব বাজারে কয়েকশ’ গরু-ছাগল বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসা হয়। ক্রয় করার জন্যও হাজারো মানুষের আনাগোনা থাকে ঐসব বাজারে। কোনরকম মাস্ক পরিধান, সাবান কিংবা হ্যান্ড স্যানিটারাইজ ছাড়াই স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বাজার বসে আসছে গরুর হাটে।
বুধবার (৭ জুলাই) হাইমচর ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ বাজারে বসে গরুর হাট। এ গরুর হাট বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের কোন ভূমিকা নেই বললেই চলে। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি হচ্ছে না, লোকজন কিভাবে আসছে-যাচ্ছে- এ বিষয়ে হাইমচর উপজেলা প্রশাসনের কোন ভূমিকা দেখা যায়নি। স্থানীয় লোকজন নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে গরুর হাট বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করেছেন উপজেলা প্রশাসনকে।
হাইমচর ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ বাজারে গতকাল বুধবার দেখা যায় হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জটলা চোখে পড়ার মতো। হাটের পাশে বসেছে চায়ের দোকান। সেখানে বসে অনেকে চা ও ধূমপান করছেন। বাজারে প্রচুর লোক সমাগম। প্রায় প্রত্যেকের মাস্ক ঝুলতে দেয়া যায় থুতনির নিচে।
নাম বলতে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, আমাদের দোকানপাট বন্ধ রেখে সরকার শত-শত মানুষের মিলন মেলা করতে দেয় কিভাবে? আমাদের দোকানে ২/১ জন করে কাস্টমার আসে, সেখানে করোনা আসে আর গরুর বাজারে দূর-দুরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ আসে তাতে কোন করোনা ছড়ায় না? প্রশাসনের এ কেমন বিচার? হয় আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলতে অনুমতি দেয়া হোক, নাহয় এসব গরুর বাজার বন্ধ করে দেয়া হোক।

০৮ জুলাই, ২০২১।