কষ্টে আছে নিম্ন আয়ের মানুষ

মনিরুল ইসলাম মনির
দফায় দফায় লকডাউনে দিশেহারা চাঁদপুরের খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। এছাড়া চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। গত ১ জুলাই লকডাউনের শুরুর পর চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার পৌর এলাকাসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে জানা গেছে এসব তথ্য।
সরেজমিনে ছেংগারচর বাজারের দোকানের কাপড় ব্যবসায়ী আবু তাহের ও সুজন মিয়া আংশিক শাটার খুলে বসে থাকতে দেখা যায়। তারা বলেন, প্রশাসন লকডাউন ঘোষণা করায় দুর্ভোগে পড়েছেন। কয়েক সপ্তাহ পরই কোরবানির ঈদ। সরকার লকডাউন দেওয়ার কারণে তাঁদের চোখেমুখে হতাশা নেমে এসেছে।
প্রসাধনী দোকানের উজ্জল ভূইয়া জানান, কয়েক দিন পরপর লকডাউনে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছেন না। এতে আর্থিকভাবে লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছি।
রেস্টুরেন্ট মালিক নূর হোসেনসহ একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, প্রথমধাপের লকডাউনের বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে এক ধরনের জীবনযুদ্ধে নামতে হয়েছে। কোনোমতে পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে এখনো সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছি না। এরই মধ্যে আবারও লকডাউন। আবারও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। পরিবার নিয়ে বাঁচবো কিভাবে, কূল পাচ্ছি না।
অটোরিকশা চালক নাছির উদ্দিন বলেন, গাড়ির আয়েই সংসার চলে, কিন্তু লকডাউনের কারণে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের ভয়ে গাড়ি নিয়ে বের হতে পারছি না। ঋণের টাকায় কেনা গাড়ি চালাতে না পারলে খাব কী, আর কিস্তিই বা দেব কী করে? কয়েকদিন পরই কোরবানি ঈদ। লকডাউনে মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পায়। লোকজন না থাকলে যাত্রীও পাওয়া যায় না।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সজিব মিয়া বলেন, সিএনজি নিয়ে বের হওয়ার সময়ই মালিককে ৫০০ টাকা দিয়ে গাড়ি নিয়ে বের হতে হয়। ৪ দিন ঘরে বসে থাকার পর পেটের তাগিদে সিএনজি নিয়ে গতকাল সকালে বেরিয়েছিলাম। পুলিশ দেখে চলে আসি।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ভিড় করতে দেখা যায় একশ্রেণির খেটে খাওয়া মানুষকে। কিন্তু কাজের জন্য কেউই খুঁজছে না তাদের। ট্রাক্টরে মাটি ওঠানোর কাজ করেন তুহিন মিয়া (৫০)। তিনি বলেন, রাস্তায় ট্রাক্টরও চলেনি, তাই কাজও বন্ধ। অর্ধহার-অনাহারে দিন কাটাচ্ছি।
রহমান, নূর নবী ও আলী মিয়াসহ কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন ব্যবসা করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চলে। একে তো লকডাউনে মানুষ ঘর থেকে বের হতে চায় না, এর ওপর প্রশাসনের নির্দেশে দোকান বন্ধ। এখন দৈনিক আয়ের মানুষগুলো কোথায় যাবে? এভাবে কিছুদিন ব্যবসা বন্ধ থাকলে না খেয়ে মরতে হবে।
ফুটপাতে ও ভ্যানে করে কলা ও আম বিক্রি করেন মনির মিয়া ও মহব্বত আলী। তারা বলেন, সারা দিন গড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকাও বিক্রি করা যায় না। লকডাউনের কারণে ক্রেতার উপস্থিতি কম। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু লোক দেখা গেলেও তাদের কাছে কিছুই বিক্রি করা যায় না।
তারা বলেন, গত বছর তো প্রশাসন ও বিত্তবানরা বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী দান করেছিলেন। এখন কেউ সহায়তাও দিচ্ছেন না।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী শরিফুল হাসান বলেন, করোনায় লকডাউনে কর্মহীন অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন আায়ের মানুষের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী তাদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হবে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে দুঃস্থদের জন্য ৫শ’ টাকা করে দেয়া হচ্ছে।

০৮ জুলাই, ২০২১।