চাঁদপুরের জেলে ও নৌকা মালিকদের জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

 

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ফেব্রুয়ারি মাসে প্রচলিত সাড়ে ৪ সেন্টিমিটার ফাঁসের সুতার জাল দিয়ে ইলিশ মাছ ধরার দাবিতে জেলে ও নৌকার মালিকদের পক্ষে চাঁদপুর কান্ট্রি ফিসিং বোট মালিক সমিতি ও চাঁদপুর কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
জানা যায়, চাঁদপুর জেলার হাজার হাজার জেলে ও নৌকার মালিক ১৯৫০ সনের মৎস্য সংরক্ষন আইনের ১৯৮৫ সনের সংশোধিত বিধিমালা ১২ মোতাবেক সাড়ে ৪ সেন্টিমিটার ফাঁসের সুতার জাল দিয়ে ইলিশ মাছ ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। তখন জাটকার সরকারিভাবে সাইজ ছিল ৯ ইঞ্চি। ২০১৩ সালে সরকারিভাবে জাটকার সাইজ ১০ ইঞ্চি নির্ধারণ করা হয়। জালের ফাঁস বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০২০ সালের জুলাই মাসে ইলিশ ধরার সুতার জালের সাইজ সরকারিভাবে সাড়ে ৬ সেন্টিমিটার নির্ধারণ করা হয়। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে ছোট প্রজাতির মাছের পোনা রক্ষায় কম্বিং অপারেশনের প্রচারণার সময় বিষয়টি ইলিশ জেলে ও নৌকা মালিকরা জানতে পারে। লাখ-লাখ টাকা ব্যয় করে এসময় জেলে নৌকার মালিকদের পক্ষে সাড়ে ৬ সেন্টিমিটার সুতার জাল তৈরী করা সম্ভব নয়। অক্টোবর মাসে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান, এরপর শুষ্ক মৌসুমের কারণে প্রায় ৪ মাস ধরে ইলিশ ধরার জাল নৌকাগুলো বন্ধ রয়েছে। জেলে ও নৌকা মালিকরা ধার-দেনা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। মালিকরা দাদন নিয়ে, ধার-দেনা করে প্রচলিত সাড়ে ৪ সেন্টিমিটার জাল ও নৌকা মেরামত করে জাটকা রক্ষায় মার্চ-এপ্রিলে অভয়াশ্রমের আগে শীতকালীন মৌসুমে ইলিশ ধরার প্রস্তুতি নেয়। জানুয়ারি মাসে সাড়ে ৬ সেন্টিমিটার সুতার জালের ফাঁসের বিষয়টি মৎস্য বিভাগ প্রচার করায় জেলে ও নৌকার মালিকদের মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়ে। ৪ মাস বন্ধ থাকার পর টাকার অভাবে সাড়ে ৬ সেন্টিমিটার ফাঁসের সুতার জাল তৈরী করতে না পায়ায় জেলার হাজার হাজার জেলে চলমান শীতকালীন মৌসুম ইলিশ ধরতে পদ্মা-মেঘনায় যেতে পারছে না। তাই জেলেরা পরিবার পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রচলিত সাড়ে ৪ সেন্টিমিটার ফাঁসের জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় দিলে হাজার হাজার জেলে পরিবার বাঁচবে। অন্যথায় তাদের এপ্রিল পর্যন্ত বেকার থাকতে হবে।
মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় শত শত জেলে নৌকার মালিক শহরের শপথ চত্বরে সমবেত হয়ে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে সাড়ে ৪ সেন্টিমিটার ফাঁসের সুতার জাল দিয়ে ইলিশ ধরার সময় প্রদানে দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন। চাঁদপুর কান্ট্রি ফিসিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি, জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহ আলম মল্লিক ও চাঁদপুর কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি তছলিম বেপারীর নেতৃত্বে জেলেও নৌকার মালিকরা জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিসের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এসময় তাদের সাথে ছিলেন চাঁদপুর কান্ট্রি ফিসিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মিজি, জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর সরদার, জেলে নৌকার মালিক কামাল দেওয়ান, ফজলু বেপারী, রইজউদ্দিন দেওয়ান, কুদ্দুস মিজি, আলী আহমেদ মাল, হাবিব সরকার, জাহাঙ্গীর মাঝী, কাদির মোল্লা, মৎস্যজীবী নেতা মালেক সরদার, দুলাল সরদার, এমরান হোসেন, হাছান প্রধানীয়া প্রমুখ।
০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১।