চাঁদপুরে জাতীয় পার্টি তৃণমূলে সংগঠিত হচ্ছে

ইলশেপাড় রিপোর্ট
আগামি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুরে জাতীয় পার্টি দলীয়ভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও দলটি চাঁদপুরে তাদের অভ্যন্তরীণ ইমেজ ইতোমধ্যেই হারিয়েছে বলে রাজনীতি সচেতন মহল মনে করছে। তবে আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন দেশের রাজনীতির মেরুকরণ শুরু হয়েছে ঠিক তখনি চাঁদপুরে দলটি তাদের জেলা দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন করলো গত ১১ জুন।
ঐ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলটির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের এমপি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর তার ভাই জিএম কাদের দলটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি দেশের রাজনীতিতে ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত হলেও জনমত তৈরিতে কিংবা আলোচিত ডাকসাইট নেতা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারেনি এখনো।
সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদের ভাই হিসেবে কেবল জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে পেরেছেন জিএম কাদের। সে আলোকে চাঁদপুরে দলীয় সফরে আসেন এই বিরোধী দলীয় নেতা। তিনি এ জেলায় তার নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করতে আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক কৌশল কি হবে তা দলীয় নেতাকর্মীদের বার্তা দিয়ে যান।
চাঁদপুরে জিএম কাদের দলীয় নেতাকর্মীদের যে বার্তা দিয়ে দলটির অবস্থান তুলে ধরছেন তা হলো- সম্ভাব্য আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতার পলাবদল হতে পারে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি হবে ট্রাম্প কার্ড। এজন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে আহ্বান জানান তিনি।
যদিও তিনি নেতাকর্মীদের ইঙ্গিত দেন ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য জাতীয় পার্টি সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি বিশ^াস করে না। জাতীয় পার্টি সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং সব অনিয়মের বিরুদ্ধে সংসদে ও রাজপথে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখছে।
তবে আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সারাদেশে ৩শ’ আসনে প্রার্থী দিবে বলে জিএম কাদের নেতা-কর্মীদের ইঙ্গিত দেন। কারণ হিসেবে তিনি তাদের টার্গেট হচ্ছে দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া। এজন্য জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা কে বড় নেতা কিংবা কে কোন্ পদ পেলো সেটি না ভেবেই কাজ করতে হবে বলে জানান।
জিএম কাদের জাতীয় রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির অবস্থান কি হবে তার বার্তাও দেন কৌশলে। আগে দলীয় শক্তি সঞ্চয় করে আমরা কার সাথে জোট করবো কি করবো না সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে। আগামিতে আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সাথে জোট হবে, না নিজেরাই আলাদা জোট করবো সেটি পরিস্থিতি ও সময় বলে দেবে বলে তিনি নেতা-কর্মীদের জানান।
প্রায় এক দশক পর চাঁদপুরে জাতীয় পার্টি তাদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন করে। চাঁদপুর জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মো. এমরান হোসেন মিয়ার সভাপতিত্বে ও মো. খোরশেদ আলম খুশুর পরিচালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নু এমপি, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, ব্যারিস্টার শামিমুল হায়দার পারভেজ পাটোয়ারী, অ্যাড. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, লিয়াকত হোসেন খোকা, নাজমা আক্তার, আলমগীর শিকদার লোটন, শেখ সাজ্জাদ রশিদ সুমন, মনিরুল ইসলাম মিলন প্রমুখ।
সম্মেলনে মো. এমরান হোসেন মিয়াকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আর সাধারণ সম্পাদক পদে পরবর্তীতে ঘোষণা দেয়া হবে বলে দলের মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নু এমপি জানান। পরে অ্যাড. শেখ আব্দুল লতিফকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।
চাঁদপুরে জাতীয় পার্টির সম্মেলনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলটি নিজদের জানান দিলো। ইতোমধ্যে জেলা বিএনপিও তাদের জেলা সম্মেলন করতে সক্ষম হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে অন্যান্য দলগুলোও ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করছে। জেলা আওয়ামী লীগ ও দলীয় ইমেজ রক্ষায় বিতর্কিত নেতা-কর্মীদের বহিস্কার ও সতর্ক করছে। যা জেলার রাজনীতিতে নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

০১ জুলাই, ২০২২।