চাঁদপুরে জেলা বিএনপির বিশাল সমাবেশ

ভোট চোর সরকার মানুষের অধিকার হরণ করে ক্ষমতায় আছে
………… ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন

এস এম সোহেল
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে চাঁদপুরে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে মুনিরা ভবনে চাঁদপুর জেলা বিএনপির আয়োজনে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার জন্য আইন কোনো বাঁধা নয়। বাঁধা হচ্ছে এই সরকার। আপনারা জানেন একটি সাজানো মামলায় এই সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছে। যে অভিযোগে দেশনেত্রীকে সাজা দেওয়া হয়েছে, সেই টাকা আজ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কাজেই আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই এবং আমাদের দাবি শর্তহীনভাবে আমাদের নেত্রীকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, ভোট চোর এই সরকার মানুষের অধিকারকে হরণ করে ক্ষমতায় টিকে আছে। তাই সরকারের উপর আজ বিদেশীরাও নিষেধাজ্ঞা দেয়। আপনারা জানেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র সম্মেলনে বাংলাদেশকে দাওয়াত দেয়নি। এটি আমাদের জন্য লজ্জার। আওয়ামী লীগ বারবার এদেশের গণতন্ত্র হত্যা করেছে। আর ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গুম-খুন শুরু করেছে। তাই এই স্বৈরাচার সরকারের হাত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে হবে।
তিনি তার বলেন, নানা প্রতিক‚লতার মধ্যেও চাঁদপুরের মানুষ এক হয়েছেন। সবাই জানেন একটি সাজানো মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা হয়েছে। এতিমের ফান্ড থেকে একটি টাকাও তোলা হয়নি, ৮ কোটি টাকা ফান্ডে জমা আছে। আজ আপনারা দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে ভোট চোর সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এই সরকার স্বৈরাচারী সরকার। বিদেশে নিয়ে বেগম খালেদাকে উন্নত চিকিৎসা করা আইনি কোন সমস্যা নয়, সমস্যা শুধু সরকার। সরকারের এই অপশাসন থেকে বেরুতে হবে। স্বাধীনতার পর এই আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্র হত্যা করে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। বর্তমানেও তা করছে। এই দেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তারা যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততোবার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। এই স্বৈরাচারী সরকার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, তা ফিরিয়ে দেবে না। তারা মানবাধিকার হত্যা করেছে, তা ফিরিয়ে দেবে না। এই সরকার ভোটের অধিকার হত্যা করেছে, তা ফিরিয়ে দেবে না। সবকিছুই জনগণ তার অধিকার আদায় করে নেবে। যার যার অবস্থান থেকে সরকার পতনে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এসেছে। সময় এসেছে প্রশাসনের সদস্যরা স্বৈরাচারী সরকারের পক্ষ ত্যাগ করে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর। দেশ ও দশের স্বার্থে নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি ত্যাগ করে ঐক্যবদ্ধ হন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন, একটি শ্লোগান সব জায়গায় শোনা যায় ‘ঐ চোর ঐ চোর, শেখ হাসিনা ভোট চোর’। আজ এই ভোট চোরেরা দিনের ভোট রাতে চুরি করে। ডিসি-এসপিরা চাকরি বাঁচানোর জন্য মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছে। এই মিথ্যাবাদীদের উপর বিদেশীরা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া শুরু করেছে। যে নেত্রী জীবনে কোনদিন কোন নির্বাচনে পরাজিত হননি। সেই নেত্রীকে সরকার জেলে বন্দি করে রেখেছে। আমাদের বিজয় শুরু হয়ে গেছে, শুধু আর কিছু সময় আমাদের রাজপথে থাকতে হবে। এখনো সময় আছে বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়েন। তার হাতে-পায়ে ধরে ক্ষমা চান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন বলেন, এই সরকারের শনির দশা শুরু হয়ে গেছে। গণতন্ত্রকামী মানুষের মুক্তির অপেক্ষা সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই সরকারের কাছে আমরা আমাদের নেত্রীর মুক্তি চাই না। আপনারা প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। আপনাদের কাছে বলতে চাই আমার মায়ের যদি কিছু হয়ে তাহলে যে যেখানে থাকবেন হাতের কাছে যা পাবেন তাই নিয়ে নেমে পড়বেন।
কেন্দ্রিয় বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সভাপতির বক্তব্যে বলেন, আপনারা শুধু আন্দোলনের ডাক দেন, আমরা প্রস্তুত থাকবো। প্রয়োজনে লাশ হব, কিন্তু রাজপথ ছাড়বো না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, এই সরকারের পতনের জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামতে হবে এবং এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
চাঁদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাড. সলিম উল্ল্যাহ সেলিম, দেওয়ান শফিকুজ্জামান, মুনির চৌধুরী ও সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জাহাঙ্গীর হোসেন খানের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, কেন্দ্রিয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাইয়েদুল হক সাইদ, কেন্দ্রিয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, কেন্দ্রিয় তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক এমপি রাশেদা বেগম হীরা, কেন্দ্রিয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাদুল করিম বারুদ, কেন্দ্রিয় মৎস্যজীবি দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, কেন্দ্রিয় যুবদলের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন মুকুল, কেন্দ্রিয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মিয়া, চাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হারুনুর রশীদ, ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শরীফ মোহাম্মদ ইউনুছ, হাইমচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিন উল্যাহ পাটওয়ারী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মিশন, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক বাদল, হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ ইমাম হোসেন, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুল হক জিতু প্রমুখ।
সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জেলা ওলামা দলের সভাপতি মাও. জসিম উদ্দিন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, চাঁদপুরের মাটি উর্বর। যখন যেই নির্দেশনা আসবে তখন যার সামনে যা থাকবে তা নিয়ে নেমে পড়বেন। গণতান্ত্রিক দেশে কিসের অনুমতি। অনুমতি ছাড়াই আজ চাঁদপুরের মানুষ ইতিহাস করে দিয়েছে। দেশে এখন পপুলার শ্লোগান ‘চোর চোর ভোট চোর’। আওয়ামী লীগ দেখলেই সবাই বলবেন, ‘চোর চোর ভোট চোর, শেখ হাসিনা ভোট চোর’। জালিম সরকারকে প্রতিহত করতে আমরা গুলি খেতেও রাজি আছি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৪ আসনের সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশীদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহাবুব আনোয়ার বাবলু, সেলিমুছ ছালাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন খান বাবুল, বর্তমান কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক খলিলুর রহমান গাজী, ফেরদৌস আলম বাবু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাজি মোশারফ হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হযরত আলী, সদস্য সচিব কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েল, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মানিকুর রহমান মানিক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল আমিন খান আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহার, জেলা মহিলা দলের সভাপতি অ্যাড. মনিরা চৌধুরী, জেলা কৃষক দলের সভাপতি এনায়েত উল্যাহ খোকন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জেলা ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ জাকির হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমান হোসেন গাজী, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হেসেন পাটওয়ারীসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এদিন সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ মিছিল নিয়ে মনিরা ভবনে আসেন। একপর্যায়ে পুরো মনিরা ভবন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এছাড়া জেলা বিএনপির আহŸায়কের বাসভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে জেলা বিএনপির কার্যালয় ও এর আশপাশের সড়কে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

১৩ জানুয়ারি, ২০২২।