চাঁদপুরে ডিমওয়ালা ইলিশের ছড়াছড়ি

মা ইলিশের ডিম ছাড়ার অভিযান বাড়ানো হোক

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর মাছ ঘাটে (মৎস্য আড়তে) অভিযান শেষ হওয়ার ৬ দিন পরও ডিমওয়ালা মা ইলিশের ব্যাপক ছড়াছড়ি। প্রতিদিন চাঁদপুর মাছ ঘাটে বিভিন্ন মোকাম থেকে পদ্মা-মেঘনা নদীতে আহরণ করা শত-শত মন ইলিশ আমদানী হচ্ছে বলে আড়তদাররা জানান। এসব মা ইলিশের ডিম ছাড়ার ২২ দিনের অভিযান আরো ১০ দিন বাড়িয়ে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চাঁদপুর মৎস্য নেতা ও বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।
অভিযানের সময় ২২ দিন পার হওয়ার পর ৬ দিন পরও সোমবার (১ নভেম্বর) চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় জেলেদের জালে ঝাঁকে-ঝাঁকে ডিমওয়ালা মা ইলিশ ধরা পড়ছে। গত ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর এ দু’দিন চাঁদপুর মাছঘাটসহ নদীর তীরবর্তী মাছের আড়তগুলোতে ডিমওয়ালা ইলিশে সয়লাব ছিলো অনেক। এসব আড়তে প্রচুর পরিমাণ মাছ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান করা হয়েছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মৎস্য ব্যবসায়ী নেতারা জানিয়েছেন।
তারা মনে করেন, ইলিশের প্রজনন রক্ষা করা না গেলে ইলিশের বংশ বিস্তার বিনষ্ট হবে। এভাবে ডিমওয়ালা তথা মা ইলিশ মাছ ধরা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এদেশ থেকে জাতীয় মাছ ইলিশ বিলুুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা বিরাজমান রয়েছে। তাই ইলিশের এ প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞার সময় আরো বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন সচেতন মহল ও মৎস্য ব্যবসায়ী নেতারা।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. শবেবরাত সরকার ও ইলিশ আড়তদার মেজবাহ মাল জানিয়েছেন, মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের মেয়াদ শেষে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ ইলিশ ঘাটে আসছে তার ৭০ ভাগের উপরে ইলিশের পেটে ডিম রয়েছে। ২২ দিনের অভিযান আরো ১০ দিন বাড়িয়ে দিলে ভালো হতো।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, আমরা আরো ৭ দিন এ বিষয়ে গবেষণা চালাবো। এরপর বলতে পারবো কত ভাগ মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে।
জানা যায়, বর্তমানে চলছে ইলিশ প্রজননের ভরা মৌসুম। এ সময় ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ার জন্যে সমুদ্র থেকে নদীতে ওঠে আসে। স্রোতের বিপরীতে চলতে থাকে এবং ডিম ছেড়ে বংশ বৃদ্ধি করে। প্রজনন মৌসুম হিসেবে ইলিশের বংশ বৃদ্ধির জন্যে গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন করা এবং বিক্রি করা নিষিদ্ধ করে সরকার। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে মা ইলিশ নদীতে ডিম ছাড়া শেষ করতে পারেনি। ফলে এ নিষেধাজ্ঞা ওঠে যাবার পর চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনার জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ডিমভর্তি মা ইলিশ মাছ ধরা পড়তে থাকে। নিষেধাজ্ঞার সময়ও প্রচুর মা ইলিশ ধরা হয়।
সরকারের ইলিশ রক্ষার পদক্ষেপ কঠোর থাকলেও অনেক জেলেরা আইন অমান্য করে ইলিশ শিকার করায় মা ইলিশ নিয়ে অনেকের প্রশ্ন। এবার যে পরিমাণ ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা হয়েছে। তাতে হাজার হাজার টন ইলিশের বংশবিস্তার বিনষ্ট হয়েছে।
এবার নদীতে জাল ফেললেই ধরা পড়েছে ঝাঁকে-ঝাঁকে চকচকে রূপালি ইলিশ। শহর ও গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারে ইলিশ মাছের ছড়াছড়ি। এরমধ্যে বেশিরভাগই রয়েছে ডিমওয়ালা মা ইলিশ। এসব মাছ আর কিছুদিন নদীতে থাকলেই ডিম ছাড়তে পারতো। এতে বৃদ্ধি পেতো লাখ লাখ ইলিশে পোনা ও এক সময় তা’ হতো পরিপূর্ণ ইলিশ। এভাবে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা হলে একসময় এদেশ থেকে জাতীয় মাছ ইলিশ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ফলে ইলিশের এ প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় বাড়িয়ে কমপক্ষে এক মাস করা দরকার বলে অনেকেই মনে করছেন।

০২ নভেম্বর, ২০২১।