চাঁদপুরে বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপ চালক নিহত

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস-পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপ ভ্যানের চালক নিহত হয়েছেন। নিহত পিকআপ ভ্যানের চালকের নাম বাবু রাড়ী (২০)। আহত হয়েছে পিকআপ চালকের সহকারী ইয়াসিনসহ দেলোয়ার ও সেফায়েত উল্যাহ নামে আরো দুই শ্রমিক। শনিবার (১৮ জুন) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার চাঁদখাঁর বাজার সংলগ্ন নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে আঞ্চলিক সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত চালক বাবু হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের টোরাগড় এলাকার আনা গাজী রাড়ি বাড়ির লুৎফুর রহমানের ছেলে। আহতরাও একই এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দা রহমত উল্যাহ জানান, চাঁদপুর থেকে রিলাক্স পরিবহনের বাসটি কুমিল্লার দিকে যাচ্ছিল এবং বিপরীত দিক থেকে শ্রমিকদের নিয়ে পিকআপটি চাঁদপুরে আসার সময় ঘটনাস্থলে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপের চালক বাবু রাড়ীর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। আহতদের চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দেলোয়ার হোসেন ও ইয়াছিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে ঢাকায় রেফার করেন। সেফায়েত উল্যাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার এসআই শাহজাহান নিহত বাবুর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। তবে দুর্ঘটনার পরপরই রিলাক্স পরিবহনের বাসটি দ্রুত কুমিল্লার দিকে চলে যায়। ঘটনাস্থলে পড়ে আছে দুর্ঘটনায় কবলিত পিক-আপ।
চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বাবুর বাড়িতে শোকের মাতম

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
চাঁদপুরে রিলাক্স পরিবহনের একটি বাস ও পিকআপের (মিনি ট্রাক) সংঘর্ষে নিহত হাজীগঞ্জের পিকআপ চালক আল-আমিন হোসেন বাবুর (২২) বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে নিস্তব্ধ হয়েছে পরিবার। তার মা ও আত্মীয়-স্বজনের কান্নায় যেন বাঁধ মানছে না অশ্রু।
গতকাল শনিবার (১৮ জুন) সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার আশিকাটি ইউনিয়নের চাঁদখার বাজার এলাকায় রিলাক্স পরিবহনের একটি বাস ও পিকআপের (মিনি ট্রাক) সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মারা যান আল আমিন হোসেন বাবু। সে টোরাগড় এলাকার আনা গাজী রাড়ি বাড়ির মৃত লুৎফুর রহমানের ছেলে আল।
মাত্র এক বছর আগে তার বাবা লুৎফুর রহমান মারা যান। এরপর থেকে সংসার আর পরিবারের হাল ধরেন আল-আমিন হোসেন বাবু। তাকে হারিয়ে মায়ের বুকফাটা আর্তনাদে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। ছেলে হারানোর শোকে তিনি কিছুক্ষণ পর-পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
এদিকে দুর্ঘটনায় অপর আহতরা হলেন- একই বাড়ির নবির হোসেনের ছেলে ইয়াসিন হোসেন, মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে সেফায়েত উল্যাহ্ ও দেলোয়ার হোসেন। গুরুতর আহতবস্থায় তাদের দুইজনকে ঢাকায় রেফার করা এবং অপর আহত একজনকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর থেকে কুমিল্লাগামী রিলাক্স নামের একটি বাস আশিকাটি চাঁদখার বাজার এলাকায় এমএম নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে আসলে চাঁদপুরগামী পিকআপের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন পিকঅআপ চালক আল আমিন হোসেন বাবু।
চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ সংবাদকর্মীদের জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপটি জব্দ করে থানায় এবং নিহত পিকআপের চালক আল আমিন হোসেন বাবুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

১৯ জুন, ২০২২।