চিতোষী পশ্চিমের ৪ গ্রামের মৎস্য চাষ ও সেচ প্রকল্প দখলের পাঁয়তারা

৪ গ্রামের ২ শতাধিক কৃষকের গণস্বাক্ষর

নোমান হোসেন আখন্দ
শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের হাড়িঁয়া, কোয়াঁর, উঘারিয়া, ও নোয়াঁপাড়া গ্রাম মৎস্য চাষ ও সেচ প্রকল্পের অবৈধভাবে দখলে নিতে পাঁয়তারা চালাচ্ছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী দখলবাজ চক্র। এ দখলবাজদের বিষয়ে ৪টি গ্রামের ২ শতাধিক কৃষক গণস্বাক্ষর করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের হাড়িঁয়া, কোয়াঁর, উঘারিয়া ও নোয়াঁপাড়া গ্রামের ৪০ একর সম্পত্তির মৎস্য চাষ ইরি মৌসুমে পানি সেচ প্রকল্পের কৃষক ও মালিকরা একত্রিত হয়ে ২০২২-২৩ অর্থবৎসরের জন্য স্থানীয় কৃষক ও মৎস্য চাষি মো. ইব্রাহীম (পিতামৃত আলী আহম্মদ, গ্রাম উঘারিয়া, শাহরাস্তি, চাঁদপুর) কে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। চুক্তিপত্রে আরো উল্লেখিত থাকে যে, ২২-২৩ বৎসরে ২য় পক্ষ মো. ইব্রাহিম বর্ষা মৌসুমে মাছ চাষ ও ইরি-বোরো মৌসুমে ১ম পক্ষ কৃষকদের বিনামূল্যে পানি সরবরাহ ও গন্ডাপ্রতি ১শ’ টাকা হারে কৃষকদের প্রদান করবে। মাছ চাষের ফলে পাশর্^বর্তী রাস্তা ও বাড়ির কোন প্রকার ক্ষতিসাধন করা যাবে না। করলে ২য় পক্ষ সে ক্ষতিপোষণ করবে। ২য় পক্ষের অবহেলার কারণে ইরি মৌসূমে পানির সংকট ও ধান চাষে বিঘœ ঘটলে ২য় পক্ষ তার দায়ভার গ্রহণ করবে। মৎস্য চাষ প্রকল্পে অন্যায়ভাবে কেউ ক্ষতিসাধন করলে তাকে সনাক্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। এতে ১ম পক্ষ কৃষকরা ২য় পক্ষ মৎস্য চাষিকে সহযোগিতা করবে।
উল্লেখিত শর্তাবলী সাপেক্ষে ১ম পক্ষ ও ২য় পক্ষ স্বাক্ষরপূর্বক জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে কৃষকরা চুক্তিনামা সম্পন্ন করেন। তারা আরো জানান, অথচ স্থানীয় এক শ্রেণির প্রভাবশালী দখলবাজ চক্র মো. জামাল (৪০) সাং কোয়ার, মো. কবির হোসেন, (৫৫), মো. রাজু (২৭), উভয় সাং উঘারিয়া, শাহরাস্তিসহ অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা ঐ কৃষি মাঠে তাদের কোন সম্পত্তি নাই ও কোন কিছুর সাথে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও তারা মৎস্য চাষ ও কৃষক পানি সেচ প্রকল্প অবৈধভাবে দখলের পাঁয়তারা করছে। এছাড়া উল্লেখিত দখলবাজরা যেকোন সময় মৎস্য চাষ প্রকল্প জোরপূর্বক দখলে নিবে দাবি করে প্রকাশ্য ২য় পক্ষ মৎস্য চাষি কৃষক মো. ইব্রাহিমকে হুমকি-দমকী দিয়ে চলেছে। বিষয়টি স্থানীয় ২শ’ কৃষক জেনে গণস্বাক্ষর ও শাহরাস্তি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

২০ জুন, ২০২২।