চাঁদপুরে সক্রিয় হচ্ছে ইসলামী দলগুলো

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে

ইলশেপাড় রিপোর্ট
দেশে করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পর অতিসম্প্রতি ভারতে বিজেপির মুখপাত্র নূপুর শর্মা ও নবীন কুমার জিন্দাল কর্তৃক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে চরম অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে চাঁদপুরে সক্রিয় হয়েছে ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো। আগামি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ইসলামী দলগুলো সাংগঠনিক শক্তি বাড়াচ্ছে।
তবে সরকার সারা দেশে ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ কিংবা বড় ধরনের জমায়াত হতে দিচ্ছে না বলে নেতৃবৃন্দ দাবি করেছেন। আর এ কারণে দলগুলোর নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রিয় কর্মসূচির আলোকে পরিবেশ পরিস্থিতি মাথায় রেখেই কৌশল নির্ধারণ করে মাঠে অবস্থান করতে দেখা যায়। আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করতে অধিকাংশ ইসলামী দলগুলো।
চাঁদপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, হেফাজতে ইসলাম ও জেলা কওমী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে আলাপ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। দলগুলো পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে রাজপথে যতটা থাকা যায় ঠিক ততটাই ভাবছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ইসলামী দলগুলো নিজদের মধ্যে জোট গঠন হতে পারে বলে তৃণমূলের নেতারা মনে করছেন।
কারণ হিসেবে নেতৃবৃন্দ মনে করছে, কথিত গণকমিশন ও ভারত সরকার ইস্যুতে সরকারের মনোভাবের বিষয় এখন সব ইসলামী দলগুলোর কাছে পরিস্কার হয়ে গেছে। যার কারণে নিজেদের মধ্যে ঐক্যের বিপরীত কিছুই নেই মনে করছেন দলগুলোর নেতাকর্মীরা। তবে কেন্দ্রিয় পর্যায় হতে এখনো ইসলামী দলগুলোর কোন ইঙ্গিত নেই বলে জেলার নেতা জানিয়েছেন।
তবে চাঁদপুরে গত ১০ জুন তৌহিদী জনতার প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে উত্তাল ছিল চাঁদপুর। ভারত সরকারের মুখপাত্র নূপুর শর্মা ও নবীন কুমার জিন্দাল কর্তৃক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে চরম অশালীন ও অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে চাঁদপুর জেলা কওমী সংগঠন। এই বিক্ষোভ সমাবেশে তৌহিদী জনতার পাশাপাশি সব ইসলামী দলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
দলগুলোর সূত্রে আরও জানা যায়, মামলা-হামলার ভয়েই মূলত রাজপথে ইসলামী দলগুলোর তৎপরতা দিন দিন কমে আসছে। তবে তারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সময়-সুযোগমতো রাজপথে থাকবে। এখন সাংগঠনিকভাবে নিজেদের নতুনভাবে ঘর গোছাচ্ছে তারা।
ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে চাঁদপুরের মাঠে ময়দানে দেখা যাচ্ছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও দলীয় ইস্যু এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক ইসলামপন্থী দল আছে ১০টি। তার মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস, ও জাকের পার্টিকে মাঠে ময়দানে দেখা যাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত ইসলামী দলগুলো হচ্ছে- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, জাকের পার্টি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।
তবে হেফাজতে ইসলাম ‘অরাজনৈতিক’ সংগঠন হলেও বর্তমানে জামায়াত ইসলামীর মতো সরকারের চাপে রয়েছে। গ্রেফতার হয়ে এখনো কারাগারে আছেন তাদের শীর্ষ পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান অনেক নেতা। আগামি নির্বাচনের আগে তারা জামিনে বের হতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংগঠনটি ভাবছে। ঐসব শীর্ষ নেতাদের মুক্তির উপর স্পষ্ট হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংগঠন হিসেবে তাদের কি ভূমিকা থাকবে।

২৯ জুন, ২০২২।