ফরিদগঞ্জে প্রাক্তন স্বামীর ভাগ্নের বাড়িতে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অনশন

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
ফরিদগঞ্জে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে প্রাক্তন স্বামীর ভাগ্নে ও বর্তমান স্বামীর বাড়িতে অনশন করছেন স্ত্রী সীমা আক্তার। বুধবার (২৯ জুন) উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হাওয়াকান্দি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে ‘৯৯৯’ নম্বর থেকে পুলিশ সংবাদ পেয়ে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করে।
অনশনরত নারী গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চরমথুরা গ্রামের দেওয়ান বাড়ির মেয়ে সীমা আক্তার জানান, উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হাওয়াকান্দি গ্রামের বেপারী বাড়ির আনোয়ার হোসেন মানিক তার প্রাক্তন প্রথম স্বামীর ভাগ্নে। আনোয়ার হোসেন মানিকের মামা বিল্লাল হোসেনের সাথে আমার ২০০৯ সালে বিয়ে হয়। বিয়ের পর মানিক বিভিন্নভাবে কৌশলে আমার আপত্তিকর ছবি তুলে হয়রানি করে ও জোরপূর্বক মানিক বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সাথে সম্পর্ক করতে বাধ্য করে। এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে আমাদের ৭ বছরের সংসার ভেঙে যায়। পরবর্তীতে মানিক আমাকে বিয়ে করার কথা থাকলেও সে বিদেশি গিয়ে ৪ বছর প্রবাসেই অবস্থান করে। পরিবারের চাপে আমার দ্বিতীয় বিয়ে হয় রামপুর গ্রামের ঢাকায় বাসিন্দা এনামুল হকের সাথে। কিন্তু সেখানেও বিভিন্ন কায়দায় মানিক আমার ক্ষতিসাধন করা শুরু করে। একপর্যায়ে সে আমার দ্বিতীয় স্বামীর সাথে যোগাযোগ করে এবং আমার বিরুদ্ধে আজেবাজে কথা বললে দ্বিতীয় সংসারও ভেঙে দেয়। তারপর মানিক বিদেশে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনে আমরা উভয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই। কিন্তু বিদেশ থেকে এসে এখন সে আমাকে স্বামীর অধিকার দিচ্ছে না। বহু অপেক্ষা করেও অধিকার না পাওয়ায় স্ত্রীর অধিকারের দাবিতে অনশন করছি। এ বিষয় আনোয়ার হোসেন সাথে ফোনে কথা বললে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।
অনশনকালে আনোয়ার হোসেন মানিক ও তার পরিবারের কেউ বাড়িতে উপস্থিত ছিলো না। তারা আগেই ঘর তালাবদ্ধ করে চলে যায়।
গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি জেনেছি। স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডল জানান, সীমা আক্তার ‘৯৯৯’ নম্বরে কল করেছে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আমরা স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আহমেদকে সুরাহা করার জন্য বলেছি।

৩০ জুন, ২০২২।