চাঁদপুরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুুর শহরের রহমতপুর আবাসিক এলাকায় স্ত্রী সালমা বেগম (৩৮) কে শ^াসরোধ করে হত্যার অপরাধে স্বামী গফুর মিজিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. জুলফিকার আলী খাঁন এই রায় দেন।
হত্যার শিকার সালমা চাঁদপুর শহরের উত্তর শ্রীরামদী মাদ্রাসা রোডের মৃত খালেক বেপারীর মেয়ে এবং গফুর মিজি ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ভাটিয়ালপুর এলাকার চির্কা চাঁদপুর গ্রামের মৃত রহমান মিজির ছেলে। তিনি পেশায় একজন শ্রমিক।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর দিনগত রাত ১০টার দিকে সালমার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম (১৯) বোনের বাসায় আসেন। রাতের খাবার শেষে সাইফুল পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক ১২টা ৩৫ মিনিটে ঘরে আসেন গফুর মিজি। তখন স্ত্রী তাকে বলেন, আপনি রাতে দেরি করেন আসেন কেন? এত রাতে বাইরে কি করেন। এই নিয়ে তাদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয়।
পরদিন ২১ অক্টোবর ভোর ৬টায় সালমার ছোট ভাই সাইফুল ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার বোনের মরদেহ মেঝেতে পড়ে আছে এবং গলাতে ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে। তাৎক্ষণিক সে চাঁদপুর মডেল থানায় খবর দেয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর চাঁদপুর মডেল থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৬ সালের ৩০ জুন ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পুলিশ নিশ্চিত হয় সালমাকে শ^াসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। সেই আলোকে সালমার মা রহিমা বেগম (৫৫) ১ জুলাই গফুর মিজিকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ আসামি গফুর মিজিকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদপুর মডেল থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হালিম সরকার তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আমান উল্যাহ বলেন, মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আসামির উপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
সরকার পক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ছিলেন অ্যাড. মোক্তার আহম্মেদ এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. মো. সাইফুল ইসলাম শেখ।