চালক নিহতদের ঘটনায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ

১৪ ঘণ্টা পর চাঁদপুরে বাস চলাচল স্বাভাবিক

স্টাফ রিপোর্টার
দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টা পর শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়ায় চাঁদপুর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাস চলাচল শুরু হয়।
এর আগে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সভায় জেলা প্রশাসক, পৌর মেয়র ও পরিবহন মালিক নেতারা শ্রমিকদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেন। পরে শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন।
সভায় জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পৌর মেয়র জিল্লুর রহমান, পরিবহন মালিক সমিতির নেতা, পরিবহন ইউনিয়নের নেতা ও সাধারণ পরিবহন শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।
গত রোববার সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বাসচালকের ‘বিনা চিকিৎসায়’ মৃত্যুর প্রতিবাদে গতকাল সোমবার ভোর পাঁচটা থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন বাস পরিবহন শ্রমিকরা। এতে ঢাকাসহ সব গন্তব্যে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের বিক্ষোভে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার উদ্দেশে আসা যাত্রীরা।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভায় পরিবহন শ্রমিকরা বলেন, শ্রমিকদের উন্নয়নে পরিবহন ও মালিক সমিতির নেতাদের কাজ করার কথা থাকলেও আমাদের কোনো বিপদে তাদের পাশে পাই না। আমাদের এক বাসচালক ভাই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। কোনো নেতাই সহায়তা তো দূরে থাক, খোঁজ পর্যন্ত নেননি। এমনকি তার জানাজায় পর্যন্ত কেউ অংশ নেননি। অথচ শ্রমিকদের কল্যাণে প্রতি বাস থেকে নিয়মিত চাঁদা দেওয়া হয়। সেই চাঁদার টাকা নেতারা আত্মসাৎ করছেন প্রতিনিয়ত।
এ বিষয়ে জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বাবুল মিজি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো যদি সত্যি হয়, তাহলে আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। বাস দুর্ঘটনায় যে বাসচালকের মৃত্যু হয়েছে, নিয়মানুযায়ী তার পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, শ্রমিকরা মূলত তাদের ইউনিয়নের নেতাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাস চলাচল বন্ধ রাখেন। তারা জানিয়েছেন, সাধারণ শ্রমিকদের কল্যাণে কোনো অর্থ ব্যয় করা হয় না। তাছাড়া, শ্রমিক ইউনিয়নের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। আমরা তাদের দাবিগুলো পূরণের জন্য আশ্বাস দিয়েছি। তারা আমাদের কথায় সন্তুষ্ট হয়েছেন।
গত রোববার চাঁদপুর সদরের চাঁদখার বাজার এলাকায় পদ্মা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশু নিহতসহ বাসের ১০ যাত্রী আহত হন। বাস দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বাসের চালক মিজান মোল্লা। পরে তিনি মারা যান। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা কোনো প্রকার সহযোগিতা না করায় ‘বিনা চিকিৎসায়’ রোববার রাতে বাসচালকের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ এনে সোমবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা।
এর আগে সকাল থেকেই চাঁদপুর থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখে পরিবহন শ্রমিকরা। শ্রমিক নেতাদের অবহেলা এবং চিকিৎসায় ত্রুটি ছিল বলে বাসচালক মিজান মারা গেছে অভিযোগে করে গতকাল সোমবার ভোর ৫টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ রাখে তারা। এ ঘটনায় বাস চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। তারা পৌর বাস টার্মিনালের কিছু অংশ ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ ও বাস চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত রোববার চাঁদপুর সদরের চাঁদখার বাজার এলাকায় পদ্মা বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে এক শিশু নিহতসহ আহত হয় বাসের ১০ যাত্রী। গুরুতর আহত হয় বাসের চালক মিজান মোল্লা (৩৫)। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়। ওই দিন রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিজান মারা যায়।
এই ঘটনায় শ্রমিক নেতারা নিহত বাস চালক মিজানকে এক নজর দেখতে যায়নি। শুধু তাই নয়, চালক মিজান মোল্লার জানাজাতেও তারা ছিলেন না। এতে করে বিনা চিকিৎসায় চালকের মৃত্যু এবং চাঁদপুর পৌর বাস টার্মিনালে অবকাঠামো সমস্যাসহ পরিবহন নেতাদের পদত্যাগ ও দাবি-দাওয়া আদায়ে বাস চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শুরু করে বাসশ্রমিকরা।
বাসচালক মমিন বেপারী ও ইসহাক বলেন, শ্রমিকদের উন্নয়নে পরিবহন ও মালিক সমিতি। আমাদের এক চালক ভাই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকায় বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। তার কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি পরিবহন নেতারা। এমনকি তার জানাজায়ও আসেনি তারা। তাদের কারণে পৌর বাস টার্মিনালের কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। তারা আমাদের কষ্টের টাকা আত্মসাৎ করছে। মিজানের মতো অনেকেই বিনা চিকিৎসা এবং সহযোগিতার অভাবে মারা গেছে। আমরা পরিবহন নেতাদের পদত্যাগ দাবি করছি। আমাদের সকল দাবি-দাওয়া মেনে না নিলে আমাদের বিক্ষোভ চলবে।
চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ বলেন, বাস দুর্ঘটনায় এক চালক নিহত হওয়ার ঘটনায় শ্রমিকরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ ও বাস চলাচল বন্ধ রাখে। তাদের অভিযোগ, বিনা চিকিৎসা ও সহযোগিতার অভাবে চালক মিজান মারা গেছে। আমরা পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, যাতে দ্রুত এটি সমাধান করা হয়।
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১।