ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর উবিতে চলছে লঙ্কাকাণ্ড

অফিস সহায়ক সাইফুলকে নিয়ে

এস এম সোহেল
ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আর প্রধান শিক্ষকের খামখেয়ালিপনায় বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. সাইফুল খন্দকার সৌদি আরবে অবস্থান করছে গত এক বছর ধরে। আর সেখান থেকেই বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা বলছেন ভিন্ন কথা।
জানা গেছে, প্রায় এক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির অফিস সহকারী মো. সাইফুল খন্দকার বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনি বর্তমানে সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে কর্মরত বলে তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। সাইফুল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির আহম্মেদ ও সভাপতি হুমায়ুর কবির পাটোয়ারীকে ম্যানেজ করেই করোনাকালীন সময়ে বিদ্যালয় ধারাবাহিক বন্ধের সুযোগে সৌদি আরবে চলে যান। সেখান থেকেই বিদ্যালয়ের সরকারি বেতন-ভাতা ভোগ করে আসছেন।
বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে জানাজানি হলে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি নিজদের নিরাপদ করতে দ্রুত ৬ মাসের মেডিকেল ছুটি দেখায় সাইফুলকে। পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও অভিভাবকসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, কর্মরত কর্মচারী কিভাবে বিভাগীয় অনুমতি ছাড়া পাসপোর্ট করলো ও দেশের বাইরে গেল।
তাদের অভিযোগ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সমন্বয়ে বিদ্যালয়টির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক এমন অনৈতিক কাজটি করে দেয় সাইফুলকে। বিনিময়ে তারা সাইফুলের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ উঠে ঐ সময়ে। সাইফুল ফের দেশে আসলে পুনারায় তাকে স্বপদে বহাল করারও কথা দেয় সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির আহম্মেদ ও সভাপতি হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী উভয়েই রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়িত্বে আসেন। যার কারণে তারা নিয়ম-নীতিকে কোন তোয়াক্কা করছেন না। ফলে বিদ্যালয়টিতে অভ্যন্তরীণ হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে।
এমনকি তারা নিজদের প্রভাবশালী ভাবায় অফিস সহকারী সাইফুল খন্দকারের অনৈতিক বিদেশ (প্রবাস) অবস্থান করাও কোন ব্যবস্থাগ্রহণ করছেন না। বরং তাকে সরকারি বিধিবদ্ধ আইনের হাত থেকে বাঁচাতে সব রকমের চেষ্টা ও তদবির অব্যাহত রাখছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
বিদ্যালয়টির অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, যেহেতু সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় সাইফুল তথ্য গোপন করে প্রবাসে অবস্থান করছেন, তা চাকরিবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ ও স্বপদের দায়িত্ব পালনের বৈধ অধিকার হারিয়েছেন। যার কারণে তাকে এমন অন্যায় কাজে উৎসাহ প্রদানকারী দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিসহ অফিস সহকারী সাইফুল খন্দকারের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির আহম্মেদ ইলশেপাড়কে জানান, অফিস সহায়ক সাইফুল বিধি মোতাবেক মেডিকেল ছুটিতে আছে। বিধি মোতাবেক প্রথমে সে ১ মাস পূর্ণ বেতনে পরে ৪ মাস অর্ধ বেতন ছুটি ভোগ করে। গত জুন মাস থেকে তার বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। তবে সাইফুল কোথায় আছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নয় বলে জানান।
বিদ্যালয়ের সভাপতি হুমায়ুর কবির পাটোয়ারী ইল্শেপাড়কে জানান, নিয়ম মেনেই আমি সাইফুলকে ছুটি দিয়েছি। বর্তমানে তার বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। তার ছুটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে জানিয়েছি। সে যোগদান করতে চাইলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলী আশ্রাফ ইল্শেপাড়কে জানান, সাইফুল যেহেতু মেডিকেল ছুটি ভোগ করছে সে হিসেবে নিয়ম অনুযায়ী বেতন-ভাতা তার হিসাব নম্বরে জমা হয়েছে। গত দুই মাস ধরে তার বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। প্রবাসে অবস্থান সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান। তবে বিদ্যালয়ে সে যোগদান করতে চাইলে তার পাসপোর্ট দেখা হবে বলে তিনি জানান। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরো জানান, সাইফুল যে বেতনে বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছে, হয়তো সে এই বেতনে বিদ্যালয়ে যোগদান নাও করতে পারে।
চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার গিয়াসউদ্দিন পাটোয়ারী ইল্শেপাড়কে জানান, এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানা নেই। তাছাড়া করোনাকালীন সময়ে যেহেতু বিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিত হাজিরা নেই, সেহেতু আগামি ১২ সেপ্টেম্বরের পরে আমি বিদ্যালয়টি ভিজিট করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করবো। তথ্য গোপন করে সে দেশের বাইরে গেলে তার বিরুদ্ধে বিধিনুযায়ী ব্যবস্থাগ্রহণের কথা জানান এই জেলা কর্মকর্তা।
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১।