ফরিদগঞ্জে ঈদেও পল্লী বিদ্যুতের অতিরিক্ত লোডশেডিং

রুহুল আমিন খান স্বপন

ফরিদগঞ্জে ক’দিন ধরেই গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিংও। প্রচন্ড গরমের সাথে চলছে বিদ্যুতের ঘন-ঘন লোডশেডিং। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ধস নেমেছে।

উপজেলার ১০/১২টি বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, হঠাৎ ঈদের সময় বিদ্যুতের অসহনীয় ভোগান্তিতে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। যতই গরম বাড়ছে ততই লোডশেডিং বাড়তে শুরু করেছে।

পোল্ট্রি শিল্পের সাথে জড়িত অনেকেই জানান, আমাদের ফার্মগুলোতে তীব্র গরমে মুরগিগুলো মরার উপক্রম হয়েছে। তাছাড়া বিক্রির জন্য রাখা দোকানগুলোতে মুরগি মরে যাচ্ছে। উপজেলার অঞ্চলভেদে লোডশেডিং কম-বেশি হচ্ছে। তবে ২নং ফিডারে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে বলে গ্রাহকদের অভিযোগ।

পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন থেকেই ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধীনস্থ ২নং ফিডারের আওতাধীন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে। ঈদের দিন বারবার, দশ মিনিট পর-পর বিদ্যুতের আসা-যাওয়া দেখছে তারা।

শাশিয়ালি গ্রামের মো. মাসুদ রানা ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, রাতে-দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং দেয়, ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের কাণ্ডজ্ঞান আছে কিনা আমার সন্দেহ হয়। অপরদিকে কড়ৈতলী গ্রামের হোসাইন পাঠান সুমন ফেসবুক স্ট্যাটাসে ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের প্রতি জোরালো ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাছাড়া বিভিন্ন গ্রামের অনেকেই অকথ্য ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে।

এলাকাবাসী বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন, রাতের পর রাত বিদ্যুৎ আর আসে না। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় যেন বিদ্যুতের ভেল্কিবাজি। এক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ আসতে না আসতেই বন্ধ হয়ে যায় অন্য এলাকার সরবরাহ। এত ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে লাইট, টিভি, ফ্রিজ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রিক জিনিস নষ্ট হয়ে দুর্ভোগ বেড়েছে গ্রাহকদের। একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেন, ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসে মনগড়া বিদ্যুৎ বিল তৈরী, অভিযোগকৃত সার্ভিস বিলম্ব ও কর্মকর্তাদের অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং অতিরিক্ত লোডশেডিং হওয়ায় চরম বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে।

অপরদিকে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণ জানতে চেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ডিজিএম মো. নূরুল হোসাইন বলেন, ঈদের আগের দিন গ্রিডের পাওয়ার ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাই লোডশেডিং থাকবে যে তা আমরা মাইকিং করে জানিয়ে দিয়েছিলাম।

কিন্তু কড়ৈতলী গ্রামের অপু আহমেদ, ইছাপুরা গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন মিঠুন ও দায়চারা গ্রামের পারভেজ হোসেনসহ অনেকেই তাদের এলাকায় মাইকিং না শুনতে পাওয়ার কথা জানান। তারা বলেন, বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা মনগড়া কথা বলেন। বিদ্যুৎ থাকবে না বা লোডশেডিং হবে এমন মাইকিং আমরা কেউ শুনিনি।

০৬ আগস্ট, ২০২০।