ফরিদগঞ্জে এক অসহায় নারীকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো
ফরিদগঞ্জ স্বামী পরিত্যক্তা এক অসহায় নারীকে তার বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করে দেয়ার পাঁয়তারা চলছে প্রতিবেশি আবুল খায়ের গংরা। বাধ্য হয়ে নিজের বসতভিটা রক্ষা করতে মানুষের দ্বারে-দ্বারে ঘুরছে অসহায় সখিনা বেগম। শকুনের দল সখিনাকে রাতে একা পেয়ে বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে। নিরুপায় হয়ে বার বার থানা পুলিশ দ্বারস্থ হচ্ছেন তিনি। তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়ে যাচ্ছে ঐসব শকুনের দল। ফলে বসতঘরে একা বসবাস করার কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সখিনা বেগম। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রূপসা ইউনিয়নের পশ্চিম রূপসা গ্রমে।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে সখিনার স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে চলে যায়। সখিনা বেগম একটি ছেলে সন্তান বুকে নিয়ে আগলে রেখে মানুষের বাসায় কাজ করে জীবনযাপন করেন। থাকার মতন কোন বাসস্থান না থাকায় অন্য ঘরে বসবাস করতেন সখিনা। একটু একটু করে টাকা জমিয়ে বসতঘরের জন্য ৭/৮ বছর আগে তাহের মুন্সির কাছ থেকে এক টুকরো (চার শতক) জমি ক্রয় করে ঐ জমিতে একটি দোচালা একটি বসতঘর নির্মাণ করেন সখিনা বেগম। বসতঘর নির্মাণ করেও ঠিকমতন থাকতে পরেনি অসহায় সখিনা বেগম। পার্শ^বর্তী আবুল খায়েরের কুনজার পড়ে ঐ জমির উপর। তার নির্দেশে ইকবাল হোসেন ও তার ভাগিনা রোমান প্রায় প্রতিদিন সখিনাকে বসতভিটা থেকে বের করার জন্য পাঁয়তারা করে যাচ্ছে। কষ্ট করে ঘর করেও ঠিকমত থাকতে পারেনি নিজ ঘরে। রাতের বেলায় থাকতে হচ্ছে অন্যের ঘরে। ফলে নিজের ঘরে থাকলে আতঙ্কে রাত কাটে সখিনা বেগমের। এমনি অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমানে একমাত্র ছেলে শরীফ হোসেন একটি প্রাইভেট কোম্পানীর গাড়িচালক হওয়ায় সে তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস করে।
সখিনা বেগম বলেন, আমার স্বামী আমাকে ছেড়ে অন্যত্র আরো একটি বিয়ে করেন। আমি আমার একমাত্র ৬ মাস বয়সী ছেলেকে নিয়ে অন্যের বাসায় কাজ করে এই পর্যায়ে এসেছি। অনেক কষ্টে টাকা জমিয়ে আমার বাবার বাড়ির পাশে পশ্চিম রূপসা গ্রামে এক টুকরো জমি ক্রয় করি। পরে মানুষের কাছ থেকে হাত পেতে, কষ্ট করে একটি ঘর নির্মাণ করি। কিন্তু সেই ঘরে ঠিকমত থাকতে পারি না। প্রতিবেশি আবুল খায়ের, ইকবাল ও তাদের ভাগিনা রোমান আমাকে প্রতিনিয়ত দিনে-রাতে আমার ঘরের বেড়ার উপর দিয়ে ও আমার ঘরের চালে ঢিল ছোড়ে আমাকে ভয়ভীতি দেখায়। প্রকাশ্যে আমার ঘর ভাংচুর করে আমার জিনিসপত্র নষ্ট করে ফেলে। আমি যদি এই জমি ছেড়ে না দেই তাহলে তারা আমাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। আমি ভয়ে মাঝে মাঝে অন্যের বাসা থাকি। আমি নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য থানায় অভিযোগ দায়ের করি। থানায় অভিযোগ করলে কয়েকদিন চুপ থাকে আবার শুরু করে। আমি প্রশাসনের কাছে এর বিচার দাবি করছি।
অভিযুক্ত আবুল খায়ের বলেন, আমার সাথে তার কোন যোগাযোগ নাই। তার জমিতে সে বসবাস করে, আমার সমস্যা কোথায়। ইকবাল ও রোমানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের সাথে কি সমস্যা, তা আমি জানি না। এখানে যারা বসবাস করেন, সবাই জমি ক্রয় করে বসতঘর নির্মাণ করেছেন। এখানে কারোর কোন পৈত্রিক সম্পত্তি নেই। সবাই ক্রয়সূত্রে মালিক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হাসান আলি জানান, সখিনার বিষয়ে জেনেছি। সামাজিকভাবেও বহুবার চেষ্টা করেছি সমাধান করার জন্য কিন্তু সখিনার পক্ষে জনবল না থাকায় ও প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী না থাকায় প্রতিপক্ষরা বারংবার ছাড়া পেয়ে যায়, আর এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয় না।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ রয়েছে। আদালতে ছকিনা বেগম বাদী হয়ে অভিযোগ করলে তা তদন্তাধীন অবস্থায় চলমান রয়েছে।

১৯ এপ্রিল, ২০২২।