ফরিদগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহনন

নারায়ন রবিদাস

এক বছর বয়সী নাতী মেয়ের পড়ার বই ছিঁড়ে ফেলায় মেয়ে নাতীকে মারধর করে। এ বিষয়টি জেনে পিতা তার মেয়েকে তিরস্কার করায় অভিমানে মেয়ে তাছলিমা আক্তার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহনন করেছে। ফরিদগঞ্জ পৌরসভাধীন ভাটিয়ালপুর গ্রামে সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে ঐ রাতেই পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মঙ্গলবার (৮ জুন) সকালে পোস্টমর্টেমের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করেছে।

জানা গেছে, ভাটিয়ালপুর গ্রামের সুরুজ আলীর ছোট মেয়ে তাসলিমা আক্তার ফরিদগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলো। তাছলিমার একটি বই সোমবার রাতে সুরুজ আলীর এক বছর বয়সী নাতী ছিঁড়ে ফেলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাসলিমা শিশুকে মারধর করে। শিশুকে মারধর করায় তাসলিমার পিতা সুরুজ আলীও তাসলিমাকে তিরস্কার করেন। এতে অভিমান করে তাসলিমা পরিত্যক্ত একটি ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহনন করে। সংবাদ পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ঐ রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে মঙ্গলবার (৮ জুন) সকালে পোস্ট মর্টেমের জন্য চাঁদপুর প্রেরণ করে।

এদিকে, ফরিদগঞ্জে পারিবারিক টানাপোড়েনসহ তুচ্ছ এমন সব ঘটনায় আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সচেতন মহলে উদ্বেগের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে জাগ্রত করার পাশাপাশি আত্মহত্যার প্রবণতা রোধে ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে জনপ্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম, শিক্ষক ও সমাজের দায়িত্বশীলদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বাহার মিয়া ঐ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার পরবর্তী পোস্ট মর্টেমের জন্য গতকাল মঙ্গলবার সকালে চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

০৯ জুন, ২০২১।