ফরিদগঞ্জ মুক্ত দিবসের র‌্যালি ও আলোচনা সভা

আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি চিহ্নগুলোকে এভাবে বিলীন হতে দিতে পারি না………যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী

নবী নোমান
২৫ নভেম্বর, ফরিদগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধের বিজয় মেলা উদ্যাপন পরিষদের আয়োজনে আলোচনা সভা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে থেকে বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে পৌরসভার মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, পৌরসভার মেয়র যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার সাবেক কমান্ডার শহিদ উল্যাহ তপাদারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান।
দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স থেকে র‌্যালি বের হয়ে হয়ে পৌরসভা মাঠে এসে শেষ হয়। পরে জাতীয়, আওয়ামী লীগের পতাকা ও বিজয় মেলার পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়।
সভাপতির বক্তব্যে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত ওয়াপদা মাঠ বা বর্তমানে যেটি পৌরসভা মাঠ হিসেবে চিহ্নিত সেই মাঠে বিজয় মেলা করে আসছি। বর্তমানে স্বাধীনতা বিরোধী একটি চক্র, ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ বিজয় মেলা উদযাপনে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। সকল অপশক্তিতে পরাজিত করে এই মাঠেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে আমরা বিজয় মেলা উদযাপন করবো ইন্শাআল্লাহ। আমাদের অনেকেই জানেন না ফরিদগঞ্জে প্রথম মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল ওই ওয়াপদা রেস্ট হাউজ। এই মাঠে মুক্তিযোদ্ধা কিছুদিনের জন্য হলেও ট্রেনিং নিয়েছেন। তাই এই স্থান এবং রেস্ট হাউজটি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে স্মৃতি বিজড়িত। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবহনকারী ফরিদগঞ্জের ওয়াপদা রেস্টহাউজকে সংরক্ষণ করতে হবে, আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমি দাবী জানাচ্ছি। রেস্ট হাউজটিকে স্মৃতি হিসেবে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সাথে সাথে এটি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। আমরা বেঁচে থাকতে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি চিহ্নগুলোকে এভাবে বিলীন হতে দিতে পারি না। মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে গেলে শেষ হওয়ার নয়। কিভাবে এদেশের সাধারণ মানুষ পাক বাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিল, কিভাবে ফরিদগঞ্জ হানাদার মুক্ত হয়েছিল, এসব তথ্য নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে। তবেই স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাধ পাওয়া সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান বলেন, যতই দিন যাচ্ছে, আমরা আমাদের সূর্য্য সন্তানদের এক এক করে হারিয়ে ফেলছি। স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিলেন বলেই, আমরা আজ স্বাধীন জাতি। আজ জনপ্রতিনিধি হয়ে দুটি কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারপরও আমাদের অতীতকে ভুলে গেলে চলবে না। মুক্তিযুদ্ধ কালিন সেই ইতিহাস সমূহ আমাদের তথা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মকে জানতে হবে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে মুক্তিযোদ্ধাদের এগিয়ে আসতে হবে।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান জি এস তছলিম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমাণ্ডার সরোয়ার হোসেন, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সফর আলী, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ ফরিদগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মশিউর রহমান মিটু, সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. শাহআলম, সহ-সভাপতি আহসান হাবিব নেভী প্রমুখ।

২৮ নভেম্বর, ২০২১।