বলাখালে বশির উল্যাহর মৃত্যুতে নানা গুঞ্জন

ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী



মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে সত্তরোর্ধ্ব বশির উল্যাহ্ নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুতে এলাকায় নানা গুঞ্জন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা কেউ বলছেন- স্ট্রোক করে, কেউ বলছেন অসুস্থতাজনিত মৃত্যু, আবার কেউ বলেছেন মারধরজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। গত শনিবার (২৮ মার্চ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বশির উল্যাহ্ মারা যান। তিনি হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ২নং ওয়ার্ড দক্ষিণ বলাখাল গ্রামের সৈয়দ আলী রাজ বাড়ির মৃত আবুল কালামের ছেলে।
এ রকম নানা গুঞ্জনের খবর পেয়ে ওইদিন বিকালেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় এবং ময়নাতদন্ত শেষে রোববার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন রনি।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নিহত বশির উল্যাহ্র ৪ ছেলে ৩ মেয়ের জনক ছিলেন। তার ছোট ছেলেকে পৌর এলাকার টোরাগড় গ্রামে বিয়ে করান। ছেলে প্রবাসী হলেও ছোট বউয়ের সাথে তার (বশির উল্যাহ) পরিবারের সাথে পারিবারিক বিষয়ে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। যার ফলে গত ২১ মার্চ (শনিবার) বশির উল্যাহর বাড়িতে ঘরোয়াভাবে উভয় পরিবারের হস্তক্ষেপে একটি শালিসি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে উভয় পক্ষকে মিলমিশ (সমঝোতা) করে দেয়া হয়।
এরপর গত ২৩ মার্চ সোমবার বশির উল্যাহ নিজ ঘরের পাশের টিউবয়েলে গোসল করার সময় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে (২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে) চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি ২৮ মার্চ শনিবার মারা যান। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলেই নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়।
ওইদিন (শনিবার) বিকালে বশির উল্ল্যাহর মরদেহ বাড়িতে এসে পৌঁছলে এলাকায় গুঞ্জন উঠে তার ছোট ছেলের শ্বশুর বাড়ির লোকজনের হামলায় তিনি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বিষয়টি এক কান, দুই কান হয়ে থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। রোববার বশির উল্ল্যাহর লাশ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত বশির উল্ল্যাহর বড় ছেলের স্ত্রী মুঠোফোনে জানান, আমার শ্বশুর (বশির উল্যাহ্) বাড়িতে স্ট্রোক করে এক অঙ্গ চলে (অচল) গেছে। তখন আমরা উনাকে হাসপাতালে পাঠাই।
ওই এলাকার সালিসদার দক্ষিণ বলাখালের জসিম উদ্দিন জানান, আমরা উভয় পরিবারকে মিলিয়ে দিয়েছি। এর বাইরে বা আমাদের সামনে কিছু হয়েছে বলে আমি জানিনা কিংবা দেখি না।
আরেক সালিসদার আবুল বাসার মৃধা জানান, আমরা তাদের অভিযোগ শুনে উভয় পরিবারকে হাতে হাত দিয়ে মিলিয়ে দিয়েছি। সালিসদারের কাজই হলো, কারো সমস্যায় ডাকলে উভয়ের কথা শুনে মিলিয়ে দেয়া। এই সালিসেও আমরা তাই করেছি
স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আলাউদ্দিন মুন্সী জানান, তাদের পারিবারিক বিষয়ের সমস্যা ছিলো, আবার তা সমাধান হয়েছে জেনেছি। বশির উল্যাহ্র মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, শুনেছি তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। এর বাইরে আমি কিছু জানি না এবং তাদের পরিবারের লোকজনও আমাকে কিছু জানায়নি।
এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন রনি জানান, আমরা বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধারপূর্বক ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিহতের পরিবারের পক্ষের কোন অভিযোগ নেই বলে তিনি জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মারামারিতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কোন ব্যক্তি হাসপাতালে মারা গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানাবেন।