বাগাদীতে ট্রাক্টর লাগিয়ে ফসলি জমি নষ্ট করে দখলের চেষ্টা

 

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের সাহেব বাজারের পশ্চিম সকদি এলাকার মহরম পাটোয়ারী বাড়ির মৃত আফতাব উদ্দিন পাটোয়ারীর ছেলে সালাউদ্দিনের ফসলীয় জমিতে ট্রাক্টর লাগিয়ে ফসল নষ্ট করে দখলের চেষ্টা করেছে একই এলাকার সেরাজল হক তালুকদারের ছেলে শাহাদাত তালুকদার। এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় সালাউদ্দিন পাটওয়ারী একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
জানা যায়, সালাউদ্দিন পাটওয়ারীর বাড়ি সংলগ্ন বেশ কয়েকটি ফসলী জমি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে টমেটো, মরিচ, পেঁয়াজ ও ডালের চারাসহ বিভিন্ন ফসল রয়েছে। বুধবার (২৪ মার্চ) সকাল ১০টায় শাহাদাত তালুকদার ২০-৩০ জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে ট্রাক্টর লাগিয়ে জমির ফসল নষ্ট করে ফেলে।
এ বিষয়ে সালাউদ্দিন পাটওয়ারী জানায়, আমাদের খরিদকৃত জমিতে প্রায় ৭০ বছর ধরে ভোগ-দখল করে আসছি। হঠাৎ করে ২০১৮ সালে আমাদের দলিল বাতিল চেয়ে শাহাদাত গংরা চাঁদপুর জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। মামলাটির কয়েকটি তারিখ যাওয়ার পর আমাদের উভয়কে কাগজপত্র দাখিলের জন্য বলা হয়। আমরা আমাদের মূল কাগজপত্র দাখিল করি। কিন্তু এরই মধ্যে মামলা চলমান থাকাবস্থায় এমনকি বাড়িতে আমার সন্তানরাও থাকে না, তারা সবাই কর্মের জন্য ঢাকায় থাকে। আমি ও আমার এক ছেলে বাড়িতে থাকি। এ সুযোগে তারা দলবদ্ধ হয়ে আমার বেশ কয়েকটি ফসলী জমিতে ট্রাক্টর লাগিয়ে ফসলগুলো নষ্ট করে ফেলে। এ জমিগুলো আমি নিজে চাষ করতে না পারায় এলাকার গরিব কৃষক দুলাল পাটওয়ারী, আনোয়ার হোসেন হাওলাদার ও খোরশেদ হাওলদারকে বর্গায় চাষ করতে দেই। তারা উভয়ই ধার-দেনা করে জমিগুলোতে চাষাবাদ করে। সেই চাষকৃত জমিগুলোর ফসল এভাবে নষ্ট করে ফেলায় তারা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে আমি চাঁদপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগের ভিত্তিতে মডেল থানার এসআই কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসেন এবং উভয়কে শান্তি বজায় রাখার জন্য কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসার নির্দেশ দেন।
গরিব বর্গাচাষি দুলাল পাটওয়ারী বলেন, কিস্তি ও বিভিন্ন লেকজনদের কাছ থেকে হাওলাত নিয়ে আমি মরিচ ও পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম। কিন্তু সকালে আমার ফসলসহ সব নষ্ট করে দেয়া হয়। এখন আমি কি করে কিস্তি ও মানুষের দেনা শেধ করবে তা নিয়ে চিন্তায় আছি।
এ বিষয়ে ভোক্তভোগী সালাউদ্দিন পাটওয়ারী আরো জানান, আমার পূর্ব পুরুষদের আমল থেকে আমরা এ সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছি। তৎকালীন সময়েও একবার এ জমি নিয়ে এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল মতিন উভয় পক্ষকে ডেকে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একটি সুরাহা করে দেয়। যা আমরা উভয় পক্ষ মেনে নেই। এখন শাহাদাত তালুকদাররা এতোদিন পরে এসে কিভাবে তাদের জমি বলে আমার ফসলি জমিতে ট্রাক্টর লাগিয়ে ফসল নষ্ট করে দেয়, তা আমার বোধগাম্য নয়। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তসাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচার কামনা করছি।
২৫ মার্চ, ২০২১।