মাজহারুল হক চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতার ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে কোরআন খতম ও দোয়া

মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা, চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতির পৃষ্ঠপোষক ও দাতা সদস্য, চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের চার্টার মেম্বার, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম মাজহারুল হক ভূঁইয়ার (নয়া মিয়া) মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় খতমে কোরআন ও দোয়ার আয়োজন করা হয় এবং পরবর্তীতে মরহুমের পরিবাবরবর্গের জন্য, হাসপাতালের বর্তমান ও মৃত্যুবরণকারী কার্যনির্বাহী কমিটির সব সদস্য, দাতা সদস্য, পৃষ্ঠপোষক সদস্য, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য, আজীবন সদস্য, সাধারণ সদস্য, হাসপাতালের সর্বস্তরের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এবং হাসপতালের ভবিষ্যত কার্যক্রমের সাফল্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দোয়া অনুষ্ঠানে হাসপাতালের সব চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, মরহুম মাজহারুল হক ভূঁইয়া ২০০১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেন।
মাজহারুল হক ভূঁইয়া’র সংক্ষিপ্ত জীবনীঃ মরহুম আলহাজ মাজহারুল হক ভূঁইয়া ১৯১২ সালে তৎকালীন ঢাকা জেলার অন্তর্গত বিক্রমপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম আব্দুর রহমান ভূঁইয়া পৈত্রিক ব্যবসায়িক সূত্রে বরিশালে আসেন এবং ব্যবসায়ী কর্মকান্ডের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি তৎকালীন বরিশাল মিউনিসিপ্যালিটির কমিশনার নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী পরগনার জমিদার সারদা কিাশোর গুহ, কালী প্রসন্ন গুহ ও দুর্গাচরণ গুহ’র সালিশী জুরি বোর্ডের সদস্য ছিলেন।
মরহুম মাজহারুল হক ভূঁইয়া ১৯৩১ সালে মেট্রিকুলেশন পাস করেন। তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাঁর বাবাকে হারান। তখন পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে তাঁকে পৈত্রিক ব্যবসাসহ পরিবারের যাবতীয় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়। তাঁর দক্ষতা, আন্তরিকতা, নিয়মানুবর্তিতা ও আত্মনিয়োগের ফলে তিনি পারিবারিক ব্যবসায় প্রভৃত উন্নতি সাধন করেন এবং পরবর্তীতে চাঁদপুর, বরিশাল ও ঢাকাব্যাপী ভূঁইয়া গ্রুপ অব কোম্পানিস্ প্রতিষ্ঠা করেন এবং কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে আজীবন দায়িত্ব পালন করেন।
মরহুম মাজহারুল হক ভূঁইয়া বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। তিনি পূর্ব পাকিস্তান অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন এবং স্বাধীনতা উত্তর সময়ে উক্ত সমিতির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্যগুদাম সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন। চাঁদপুর, বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন জনহিতকর প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদ্রাসা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের চার্টার মেম্বার এবং বাংলাদেশ রেড ক্রস সোসাইটির আজীবন সদস্য ছিলেন। তাছাড়া বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতি (বিএনএসবি) ও ডায়াবেটিক সমিতির তিনি একজন পৃষ্ঠপোষক ও দাতা সদস্য ছিলেন। এছাড়া তাঁর নেতৃত্বে বরিশালে ব্যবসায়ীদের নিয়ে তিনি ‘বরিশাল মার্চেন্ট ক্লাব’ নামে একটি ক্রীড়া সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন এবং উক্ত ক্লাবে তিনি দীর্ঘদিন সভাপতির পদে আসীন ছিলেন।
১৯৮০ সালে তিনি পবিত্র হজব্রত পালন করেন। চাঁদপুরের আমীরাবাদের প্রাক্তন জমিদার মরহুম আলহাজ গোলাম মর্তুজা চৌধুরীর তৃতীয় কন্যা হামিদা বেগমের সাথে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০০১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর সফল উত্তরাধিকারী হিসেবে ৭ ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে যান।
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০।