যাত্রীর চাপে কানায় কানায় পূর্ণ চাঁদপুর লঞ্চঘাটের পন্টুন

এস এম সোহেল
চাঁদপুরে ঈদের ছুটিতে মানুষের ঢল নামে। সড়কপথের পাশাপাশি চাঁদপুর নদীবন্দরেও বেলা ৪টার পর থেকে যাত্রীদের ঢল নামে। সন্ধ্যায় নদীবন্দরের পন্টুন ও লঞ্চগুলো কানায় কানায় পূর্ণ ছিলো। সন্ধ্যার পর চাঁদপুর লঞ্চঘাট পন্টুনে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না কোনো।
পরিবারের সাথে ঈদ করতে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। বিকেলের পর থেকে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে যাত্রীদের ভীড় বাড়তে থাকে। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানের লঞ্চ পর্যাপ্ত যাত্রী নিয়ে ঘাটে আসতে দেখা যায়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহার আগে বন্ধ পেয়ে যাত্রীদের ভীড় বাড়ছে। শুক্রবার ও শনিবার যাত্রীদের ভিড় আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তায় নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, স্কাউট, বিআইডব্লিউটিএ সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) রাতে ৮টায় চাঁদপুর লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম ও বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যাত্রীরা লঞ্চঘাটে তাদের গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ঘাটে অবস্থান করছেন। লঞ্চ এলেই উঠে যাচ্ছেন যাত্রীরা। তবে সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা, যাত্রীদের কয়েকজন ছাড়া কারো মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। ঢাকা থেকে যেসব লঞ্চ চাঁদপুর ঘাটে এসেছে, সেগুলো ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী নিয়ে আসেন। অনেক যাত্রী ঘাটে লঞ্চ আসার সাথে সাথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উঠতে দেখা যায়।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত চাঁদপুর ঘাটে যাত্রী নিয়ে ২৬টি লঞ্চ এসেছে। ঢাকা থেকে এসেছে ১৩টি লঞ্চ। নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছে ৮টি লঞ্চ ও অন্যান্য ৫টি।
চট্টগ্রাম থেকে আসা বরিশালগামী যাত্রী আব্দুস ছোবহান বলেন, ঈদ উদযাপন করার জন্য চাঁদপুর লঞ্চঘাটে এসেছি। নিরাপদে বাড়িতে যাওয়ার চিন্তায় আছি।
ভোলায় উদ্দেশে যাবেন ব্যাংকার জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, করোনার কারণে গত কোরবানির ঈদে বাড়িতে আসতে পারিনি। এ বছর ঈদের আগেই বাড়িতে এসেছি। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে অনেক আনন্দ করবো। এখন কর্মস্থলে ভালোভাবে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি।
চাঁদপুর নৌ-থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, লঞ্চঘাটে আমাদের পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।
চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা এ কে এম কায়সারুল ইসলাম বলেন, ঈদুল আজহা উদযাপনের জন্য দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের চাপ রয়েছে। আমাদের পর্যাপ্তসংখ্যক লঞ্চ থাকায় টার্মিনালের পরিস্থিতি স্বাভাবিকের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। যাত্রী সাধারণের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। আশা করছি সবাই নিরাপদে গন্তব্যে যেতে পারবেন।

০৮ জুলাই, ২০২২।