সর্বাত্মক লকডাউনের জন্য প্রস্তুত চাঁদপুর

চলাচলের জন্য লাগবে মুভমেন্ট পাস, বিপাকে শ্রমজীবীরা

ইলশেপাড় রিপোর্ট
আজ ১৪ এপ্রিল পবিত্র মাহে রমাজানের প্রথম দিন। মুসলমানদের জন্য সিয়াম সাধনার এক অনন্য নাজাতের বা গুনাহ মুক্তির মাস। এর সাথে হাজার বছরের বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ। এই দুই আমেজের এমন দিনে বিব্রত দেশের ১৭ কোটি মানুষ। একদিকে করোনার মতো অতি ক্ষুদ্র ভাইরাসের জন্য সারা বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষও জিম্মি। তার সাথে যুক্ত হয়েছে আজ থেকে চাঁদপুরসহ সারা দেশে কাঠোর লকডাউন। এক কথায় ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। সারা দেশে লকডাউন বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত প্রশাসন। দেশের সব সড়কেই থাকবে আইন-শৃঙ্খলা বাহীনির কঠোর নজরদারি। জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতে হলে লাগবে প্রত্যেকের ‘মুভমেন্ট পাস’।
এদিকে সরকার ঘোষিত এই কঠোর লকডাউনকে ঘিরে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে খেটে-খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের মাঝে। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই। কারণ প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। আক্রান্ত তো হিসাব ছাড়িয়ে যাচ্ছে সব রেকর্ডই। এ পর্যন্ত সারা দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৯শ’ ৮৫ জন। সুস্থ হয়েছে ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৯শ’ ৬৬ জন। আর সর্বমোট মৃত্যু হয়েছে ৯ হাজার ৮শ’ ৯১জন।
এমন পরিস্থিতিতে কঠোর লকডাউন ঘোষণা আসে সরকারের তরফ থেকে। যা থেকে শুরু হয়ে আগামি ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বলবত থাকবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় লকডাউন পরবর্তীতে বাড়তে পারে। লকডাউনে কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবে না। যেতে হলে িি.িসড়াবসবহঃঢ়ধংং.ঢ়ড়ষরপব.মড়া.নফ এ ওয়েবসাইট হতে নিতে হবে ‘মুভমেন্ট পাস’। তাছাড়া সড়কে চলাচল করা যাবে না। তবে গণমাধ্যমকর্মীরা থাকবে এর আওতামুক্ত।
কঠোর বিধি-নিষেধের এই লকডাউনে জরুরি প্রয়োজনে বা অফিসিয়াল কাজে, মুদি দোকানে কেনা-কাটা, কাঁচা বাজার, ওষুধপত্র, চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত, কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ, ত্রাণ বিতরণ, পাইকারি বা খুচরা ক্রয়, পর্যটন, মৃতদেহ সৎকার, ব্যবসা ও অন্যান্য ক্যাটাগরিতে যারা লকডাউনে বাইরে বের হবেন তাদের জন্যই ‘মুভমেন্ট পাস’ নেয়া লাগবে।
এমন পরিস্থিতিতে এক সপ্তাহের জন্য সব অফিস-আদালত মূলত বন্ধ থাকবে। এমন পরিস্থিতি ব্যাংকও বন্ধের আওতায় পড়ে। এতে করে ব্যবসায়ীসহ সর্বসাধারণ অনেকটাই হতবাক হয়ে যান। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক খোলা রাখার জন্য বিশেষ প্রয়োজনে ব্যাংক চালু রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। চিঠির পর ব্যাংক বন্ধ রাখার কথা থেকে সরে এসেছে কেন্দ্রিয় ব্যাংক। বিধি-নিষেধের সাতদিন সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে ব্যাংক। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ব্যাংকের লেন-দেন হবে। লেনদেন-পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করার জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে বেলা ৩টা পর্যন্ত।
এদিকে সিয়াম সাধনার মাস মাহে রমাজানে মসজিদের জন্য জামায়াতে নামাজ পড়ানো নিয়েও রয়েছে সরকারের নির্দেশনা। যা মানতে হবে সবাইকে। যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং রমজানে তারাবির নামাজে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা জারি করে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

১৪ এপ্রিল, ২০২১।