মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জ বাজারস্থ কিউসি (কাতার-কানাডা) টাওয়ারের একটি বাসা থেকে আটক ১১ জন জামায়াতের নারী সদস্যকে সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতিসহ দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে অন্তর্ঘাতমূলক কার্যকলাপের পরিকল্পনার অভিযোগ এনে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় আটক ১১ জনসহ নামীয় ১৫ জন ও অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন হাজীগঞ্জ থানার এসআই মো. নুরুল আলম। এর আগে রোববার (১৮ ডিসেম্বর) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম ওই ভবনটি ১১ তলার ‘বি’ ব্লকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে অবসরকালীন ছুটিতে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালামের ভাড়া বাসা থেকে তার স্ত্রীসহ জামায়াতের ১১ নারী সদস্যকে আটক করে পুলিশ।
এসময় ওই বাসা থেকে সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদীর লিখিত বই ‘ইসলাম রাষ্ট্র কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়’ ১টি, ‘ইসলামী আন্দোলন নৈতিক ভিত্তি’ ২টি, ‘আল্লাহর পথে জিহাদ’ ১টি, আব্বাস আলী খানের লিখিত একটি আদর্শবাদী দলের পতনের কারণ: তার থেকে বাঁচার উপায় বই ১টি, বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর সকল পর্যায়ে জনশক্তির প্রতি আমীরে জামায়াতের ‘আহ্বান’ ২টি, ব্যক্তিগত রিপোর্ট বই সদস্য/সদস্য (রুকন) প্রার্থী ৬টি, ব্যক্তিগত রিপোর্ট বই কর্মী ৬টি ও নগদ ১১ হাজার ৫০ টাকাসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম জব্দ করে পুলিশ।
আটকরা হলেন- কচুয়া উপজেলার বড়ইগাঁও গ্রামের নাছরিন খানম (৫২), হাতিরবন্ধ গ্রামের আঞ্জুমানারা লাকি (৪০), সাচার গ্রামের শাহনারা বেগম (৪৩), হাজীগঞ্জ উপজেলার বাড্ডা গ্রামের ফাতেমা বেগম (৪২), মকিমাবাদ গ্রামের হাছিনা বেগম (৪৭), ছিলাচোঁ গ্রামের সালমা আহম্মদ (৪০), শাহরাস্তি উপজেলার রাগৈই গ্রামের জেসমিন আক্তার (৪৮), বানিয়াচোঁ গ্রামের নিহারা বেগম (৫৭), বাদিয়া গ্রামের শিরিন বেগম (৪২), বেহেলা গ্রামের মাসুদা বেগম (৪২) ও নিজমেহের গ্রামের সেলিনা আক্তার (৪৩)।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. সফিকুর রহমানকে আটকের প্রতিবাদে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতিসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নাশকতামূলক কর্মকান্ড করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার লক্ষ্যে জামায়াতের নেতাকর্মীরা অন্তর্ঘাতমূলক কার্যকলাপ পরিকল্পনা করার উদ্দেশে হাজীগঞ্জ বাজারস্থ কিউসি টাওয়ারে গোপন বৈঠক করে।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ জামায়াতে ইসলামীর ১১ জন নারী সদস্যকে জামায়াতের মতাদর্শের বই, নগদ টাকাসহ জব্দসহ তাদের আটক করে। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ২০/২৫ জন পালিয়ে যায়। এদিকে রোববার বিকালে তাদের আটক করা হলেও বিষয়টি পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় সোমবার দুপুরে।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, আটকদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ এবং মামলার নামীয় অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য, হাজীগঞ্জ বাজারস্থ কিউসি টাওয়ারের ১১ তলার ‘বি’ ব্লকে ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম। তিনি হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মরত ছিলেন। চলতি বছর তিনি অবসরকালীন ছুটি যান বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।
তিনি বাসা ভাড়া নেওয়ার পর থেকে নিয়মিত ওই বাসায় জামায়াতের নারী সদস্যরা আসা-যাওয়া এবং গোপন বৈঠক হতো। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাসাসহ ভবনটি নজরদারীতে রাখে পুলিশ। এরপর রোববার গোপন বৈঠক চলাকালে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নজরুল ইসলাম অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে জামায়াতের ১১ নারী সদস্যকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় ওই বাসা থেকে জামায়াতের মতাদর্শের বেশ কিছু বই ও নগদ টাকাসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম জব্দ করে পুলিশ।
এ বিষয়ে কিউসি টাওয়ারের ‘বি’ ব্লকের স্বত্বাধিকারী মো. সফিকুর রহমানের সাথে সংবাদকর্মীদের কথা হলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তার অফিস সহায়ক (দারোয়ান) মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, ওই বাসায় প্রায় সময় নারীরা আসা-যাওয়া করতো। তারা কি জন্য বা কি কারণে আসা-যাওয়া করতো, তা তিনি জানেন না। এখন নারীদের আটক হওয়ার পর তিনি বিষয়টি জেনেছেন বলে জানান।
এদিকে ওই সময়ে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে অবসরকালীন ছুটিতে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে ওই স্থান থেকে ত্যাগ করেন। পরে তাকে না পাওয়ায় এবং মুঠোফোন সংগ্রহ করতে না পারায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
২০ ডিসেম্বর, ২০২২।
