
নিজস্ব প্রতিনিধি
ধর্ষণের অভিযোগে হাজীগঞ্জের মো. কাউছার হোসেন (২৮) নামের এক শিক্ষককে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার দুপুুুুরে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তাকে আটক করে হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন।
কাউছার উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের নোয়াদ্দা গ্রামের খলিল মিয়া বেপারী বাড়ির মো. শাহজামালের ছেলে। সে একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত (২৪) নামের এক গৃহবধূকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত এক বছর ধরে ধর্ষণ করার অভিযোগে তাকে আটক করে পুলিশ। জান্নাতুল ফেরদৌস একই বাড়ির জাকির হোসেনের স্ত্রী এবং তার বাবার বাড়ি কচুয়া উপজেলার পরানপুর গ্রামে।
জানা গেছে, জান্নাতুল ফেরদৌসের সাথে একই বাড়ির শিক্ষক কাউছার হোসেন সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে বিয়োর প্রলোভন দেখিয়ে একবছর ধরে ধর্ষণ করে আসছে কাউছার। কিন্তু গত এক বছরেও বিয়ে না করায় জান্নাতুল ফেরদৌস বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে বাদী জান্নাতুল ফেরদাউস জান্নাত জানান, বিয়ের পর থেকে স্বামী জাকির হোসেন দাম্পত্য জীবনে সুখ দিতে পারেনি। তাই দুই বছর আগে কাউছারের সাথে কথা-বার্তা এবং তার সাথে সম্পর্ক হয়। এক বছর ধরে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। সে আমাকে বিয়ে করবে বলে বার বার আশ্বাস দিয়ে আসছে। যার কারণে আমি স্বামী জাকির হোসেনের ঘরে পড়ে থাকি। কিন্তু বিয়ে না করায় আমি নিরুপায় হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।
জান্নাতের স্বামী জাকির হোসেন জানান, আমার ৮/১০ লাখ টাকা জান্নাত গোপনে কাউছারের হাতে তুলে দিয়ে আমাকে সে নিঃস্ব করেছে। দীর্ঘদিন কাউছারের সাথে খারাপ কাজ করে আসছে। তিনি বলেন, বিষয়টি আমার শ্বশুরকে জানানোর পর বুধবার দুপুরে তিনি এসে জান্নাতকে নিয়ে (কচুয়া) গেছে।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন রনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কাউছার হোসেনকে আটক করা হয় এবং বুধবার আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। তিনি বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর এবং সামাজিক অবক্ষয়।
