হাজীগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ছাত্রলীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে উপজেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) বিকালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, র‌্যালি, সংক্ষিপ্ত সমাবেশ এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অগ্রযাত্রা এবং যে কোনো সংকটে আওয়ামী লীগের দিক-নির্দেশনায় সামনের কাতারে থেকে লড়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।
এ দিন বিকালে র‌্যালিটি হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্থ কিউসি টাওয়ারের সামনে থেকে বের হয়ে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জ বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলে এসে শেষ হয়।
র‌্যালি ও সমাবেশে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মাইনুদ্দিন, পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ হেলাল উদ্দিন মিয়াজী। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ ছাত্রলীগের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবায়েদুর রহমান খোকন বলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি উপস্থিত ছিলেন বাকিলা ইউপির চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান ইউসুফ পাটওয়ারী, সদর ইউপির চেয়ারম্যান আলহাজ সফিকুল ইসলাম মীর, বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত, কালচোঁ উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান পলাশ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সত্যব্রত ভদ্র মিঠুন, ফরিদুল ইসলাম, পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজন সাহা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপজেলা ও সব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কার্যকরী কমিটি নেতৃবৃন্দসহ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় ছাত্রলীগ। তার নেতৃত্বেই ঐ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়। উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ও প্রচীন ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৭৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের কেন্দ্রিয় নেতারা সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ৫৮’র আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ৬ দফার পক্ষে গণঅংশগ্রহণের মাধ্যমে মুক্তির সনদ হিসেবে এই দাবিকে প্রতিষ্ঠা করে।
এরপর ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনা, ৭০’র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়লাভ এবং ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে পরাধীন বাংলায় লাল সবুজের পতাকার বিজয় ছিনিয়ে আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

০৫ জানুয়ারি, ২০২২।