হাজীগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধে হামলা, আহত ৩

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় সবুজ বকাউল (২৬), আলামিন বকাউল (২২) ও রুবেল বকাউল (৩৪) সহ ৩ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত সবুজ বকাউল বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) উপজেলার দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের বকাউল বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা ওই বাড়ির মিজান বকাউলের ছেলে।
এই ঘটনায় ওই দিন হাজীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রুবেল বকাউল। অভিযোগে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। নামীয় বিবাদীরা হলেন- একই বাড়ির মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৫০), মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে ফিরোজ (২৫), শাহানুর (২৭) ও ফয়সাল (১৮), একই গ্রামের মোল্লা বাড়ির সিরাজ মোল্লার ছেলে হারুন মোল্লা (৪০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্পত্তিগত বিরোধে গত শনিবার সকালে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয় উল্লেখিত বিবাদীরা। এরপর রোববার সকালে নামীয় বিবাদীগণসহ অজ্ঞাতনামা বিবাদীদের সাথে নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রসহ বাদীর বসতঘরের সামনে সবুজ বকাউল ও আলামিন বকাউলের উপর হামলা করে। এতে তারা গুরুতর আহত হয়।
খবর পেয়ে বাদী রুবেল ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাকেও মারধর করেন বিবাদীরা। পরে পরিবারের লোকজন তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় চেঙ্গাতলী বাজারে ডা. এমজি ফেরদৌস হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে গুরুতর আহত সবুজ বকাউলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয় এবং আলামিন ও রুবেল প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। সবুজ বর্তমানে ডা. এমজি ফেরদৌস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় বাদীর পরিবার নিরাপত্তাহীনতা ভুগছেন বলে জানান রুবেল বকাউল। এদিকে মারামারির বিষয়টি স্বীকার করে বিবাদী আনোয়ার হোসেন বলেন, সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে তার সম্পত্তি দখলের চেষ্টাসহ বেশ কয়েকটি কলা গাছ কেটে ফেলেন বাদীরা। বিষয়টি তিনি এলাকার লোকজনকে দেখাতে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে যাওয়ার পর সবুজ ও আলামিনসহ তাদের পরিবারের সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দু’পক্ষের মারামারির ঘটনা ঘটে। মারধরে আমার ভাতিজা ফিরোজ ও ফাহিম আহত হয়েছেন। তারা হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন। স্বাক্ষী ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
১৪ অক্টোবর, ২০২০।