হাজীগঞ্জে সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের সেবা থেকে বঞ্চিত সাড়ে ৪ লাখ মানুষ

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ্যাম্বুলেন্স আছে, চালক নেই। আর চালকের অভাবে গত দুই বছর যাবৎ কোনো কাজে আসছে না নতুন মডেলের আধুনিক ও শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত সরকারি এই এ্যাম্বুলেন্সটি। কবে নাগাদ চালকের সমস্যা সমাধান হবে তা জানেন না, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। ফলে গ্যারেজেই পড়ে আছে সরকারি এ্যাম্বুলেন্সটি। অথচ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়ির চালক নিয়োগ দেয়া হলেও সাড়ে চার লাখ মানুষের জন্য এ্যাম্বুলেন্সের চালক নিয়োগ দেয়া হয়নি।

জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র সরকারি এ্যাম্বুলেন্সটি মেরামতের অযোগ্য হিসেবে গত ৬ বছর যাবৎ অচলাবস্থায় হাসপাতাল গ্যারেজে পড়ে ছিলো। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্যসেবা জনগনের দোরগোড়ে নিশ্চিতকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন এ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয়। যা ২০১৮ সালের ২৩ অক্টোবর সংসদ সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। কিন্তু চালকের অভাবে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ জনগোষ্ঠির কোন কাজে আসছে না এই এ্যাম্বুলেন্সটি।
এছাড়া হাসপাতালটি জেলার মধ্যবর্তী স্থান ও কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে হওয়ায় এবং রেলপথ, স্থলপথ ও নদীপথের সংযোগ থাকার কারণে পার্শ্ববর্তী উপজেলা কচুয়া, শাহরাস্তি, ফরিদগঞ্জ, মতলব ও চাঁদপুর সদর এবং লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার একাংশের জনগণ স্বাস্থ্যসেবা নিতে প্রতিনিয়ত ছুটে আসেন এই হাসপাতালে। কিন্তু এ্যাম্বুলেন্সে চালকের অভাবে সচল না থাকায় মারাত্মক দুর্ভোগ ও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীসহ অন্যান্য মুমূর্ষু রোগীরা। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়ছেন এ অঞ্চলের গরিব ভুক্তভোগী মানুষগুলো।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৬.৬৩ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটি ২০০৮ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়। হাসপাতাল থেকে প্রতি মাসে গড়ে ১২ হাজার রোগি সেবা নিয়ে থাকেন। যার মধ্যে অধিকাংশ হচ্ছে, নারী ও শিশু এবং দুর্ঘটনাজনিত রোগি। এর মধ্যে প্রতিমাসে প্রায় দেড় শতাধিক আশংকাজনক রোগিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করতে হয়।
কিন্তু এ্যাম্বুলেন্সের চালক না থাকায় এসব রোগির পরিবারের লোকজনকে বিপাকে পড়তে হয়। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল রোগির পরিবারকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স বা সিএনজিচালিত স্কুটার যোগে যেতে হয় তাদের। এর ফলে যথাসময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রায় সময়ে রোগির প্রাণহানীর ঘটনাও ঘটে।
এছাড়া চালক না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রায় সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হয় এবং দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশসহ এ্যাম্বুলেন্সটি অকেজো বা নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে বলে জানান সচেতনমহল। তাই দ্রুততার সাথে এ্যাম্বুলেন্সের চালক নিয়োগ দেয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস.এম সোয়েব আহমেদ চিশতী নিজেও স্বীকার করে বলেন, জরুরি মুহূর্তে রোগীর জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পাওয়াটা কষ্টদায়ক। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারের লোকদের জন্য।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং প্রতি মাসেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়।
২২ জুলাই, ২০২০।