হাজীগঞ্জে হত্যা মামলায় ১ জনের যাবজ্জীবন, দু’জনের পৃথক সাজা


স্টাফ রিপোর্টার
হাজীগঞ্জে হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মো. জুয়েলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানাসহ অপর দুই আসামিকে পৃথক সাজা প্রদান করেছে আদালত। গতকাল রোববার জেলা ও দায়রা জজ মো. জুলফিকার আলী খাঁন এই রায় দেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মো. জুয়েল, পৃথক সাজাপ্রাপ্ত রিপন ও ফারহানা মিয়াজী বাড়ির আব্দুর রহিমের ছেলে এবং মেয়ে। উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম কাজীরগাঁও গ্রামের মিয়াজী বাড়িতে পুকুর ঘাটে গরুর বাছুর বেঁধে রাখাকে কেন্দ্র করে ২০০৭ সালে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নাসির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার অপরাধে প্রধান আসামি মো. জুয়েলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, আসামি মো. রিপনকে ৩২৬ ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড, ৩২৩ ধারার অপরাধে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৩২৪ ধারায় অপরাধে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর আসামি ফারহানা ওরফে ফেন্সীকে ৩২৩ ধারার অপরাধে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। আসামি মো. রিপনের সব দণ্ডসমূহের সাজা একত্রে চলবে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মামলার বাদী মো. গিয়াস উদ্দিন ও তার আপন ভাই নিহত নাসির উদ্দিন রমজানের ইফতারের পরের বাড়ির পুকুরে নামাজের জন্য অজু করতে যান। ওই সময় বাড়ির এজমালি রাস্তায় পুকুরের পাড়ে বিবাদী রিপনদের একটি গরুর বাছুর দেখতে পায়। তখন নাসির ওই বাছুরটির রশি খুলে ছেড়ে দেন এবং অন্যত্র নিয়ে যেতে বলে। তখন তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রিপন তাদের ঘরে থাকা শাবল দিয়ে নাসিরকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এই অবস্থায় নাসির চিৎকার করলে রিপনের সাথে অপর আসামি জুয়েল ও ফেন্সি ঘরে থাকা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে নাসিরকে বেদম পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তাকে উদ্ধার করার জন্য তার স্বজনরা আসলে তাদেরও মারধর করে। গুরুতর অবস্থায় নাসিরকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরবর্তীতে কুমিল্লা মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে তাকে কুমিল্লা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় নাসির উদ্দিনের মৃত্যু হয়।
ওই ঘটনায় নাসির উদ্দিনের বড় ভাই গিয়াস উদ্দিন ঘটনার দিন বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় ৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাজীগঞ্জ থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাদেকুর রহমান ব্যাপক তদন্ত শেষে একই বছরের ২৭ অক্টোবর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. রনজিত রায় চৌধুরী বলেন, মামলাটি প্রায় ১৩ বছর আদালতে চলমান অবস্থায় ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমান ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে বিচারক এই রায় দেন। রায়ের সময়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক ছিলেন।
সরকার পক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ছিলেন অ্যাড. মোক্তার আহমেদ। আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. রাজেশ মুখার্জি ও অ্যাড. মো. ফারুক।