হানারচরে আড়াই শতাধিক বাতিলকৃত জেলেদের ক্ষোভ

সজীব খান
চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নে কার্ডধারী আড়াই শতাধিক জেলে বাতিল করা হয়েছে। এদের অধিকাংশই প্রকৃত জেলে বলে তারা দাবি করেছে। জেলার প্রকৃত জেলেদের তালিকা সঠিকভাবে হালনাগাদের সময় তাদের বাতিল করা হয়। মঙ্গলবার (৮ মার্চ) হানারচরে জেলেদের জেলে কার্ডের চাল বিতরণের সময় বাতিলকৃত অধিকাংশ জেলেই পরিষদের এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে। যাচাই-বাছাই করে আবারো জেলে তালিকায় তাদের নাম উঠানোর জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
মঙ্গলবার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান প্রধান অতিথি হিসেবে চাল বিতরণের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বাতিলকৃত জেলেদের বিষয়ে মৎস্য অফিসের সাথে কথা বলে সঠিক তালিকা করার আশ্বস্ত করেন।
হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যমতে- জেলে কার্ডের হালনাগাদের সময় আড়াইশ’র বেশি জেলে কার্ড বাতিল করা হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, প্রকৃত জেলে কিভাবে যাচাই-বাছাই থেকে বাতিল হয়েছে, এর দায়ভার কে নেবে?
হানারচলে বাতিলকৃত জেলেরা বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা জাটকা সংরক্ষেণ মার্চ এপ্রিল দুই মাস নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য নদী থেকে নৌকা ও টলার উপরে উঠিয়ে ফেলেছে। এখন এ দুই মাস নদীতে মাছ শিকার করা থেকে তারা বিরত থাকবে। তাদের প্রধান আয়ের উৎস নদীতে মাছ শিকার করা। তা দিয়েই তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। নিষেধাজ্ঞার দুই মাস সরকারি সহয়তা, চাল পেলে তাদের জীবিকা নিবাহ করতে সহজ হত, বাঁচতে পারতো, এখন তারা কি করবে, নদীতে মাছ শিকার করা থেকেও বিরত রয়েছে। অন্যদিকে সরকারি ত্রাণ চাল পাওয়া থেকেও বঞ্চিত হয়েছে। এ দুই মাস তাদের জীবন বাঁচাতে যুদ্ধ করতে হবে।
হানারচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জেলে গিয়াস উদ্দিন, হানিফ মিজি, ৮নং ওয়ার্ডের কাদির খান, কাদির গাজী, ৭নং ওয়ার্ডে রামেশ্বর দেবসহ একাধিক জেলে জানান, তারা প্রকৃত জেলে, তাদের কোন কারণে বাতিল করা হয়েছে। তা তাদের জানা নেই। এখন আবার তাদের যাচাই-বাছাই করে জেলে তালিকায় অন্তঃর্ভুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি করেছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান জানান, বাদ পড়ে থাকলে তাদরে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা সুযোগ আছে। আমাদের যে কমিটি আছে, তাদের সাথে আলাপ আলোচনা করে প্রকৃত জেলেদের তালিকায় তাদের নাম আসবে।

০৯ মার্চ, ২০২২।