সজীব খান
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমার হস্তক্ষেপে অবশেষে বিদ্যুৎ সংযোগ পেলো তরপুরচন্ডী ইউনিয়নের উত্তর তরপুরচন্ডী কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমার উপস্থিতিতে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ের নতুন তিন তলা ভবনে সংযোগ দেন। বিদ্যালয়ে নতুন ভবনে লাইন সংযোগ পেয়ে খুশি বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ সচেতন এলাকাবাসী।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের অংশ হিসেবে উত্তর তরপুরচন্ডী কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের সময় বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অন্যত্র রাখা হয়। ভবন নির্মাণ শেষে বিদ্যালয়ের মিটারটি সংযোগ দিতে গেলে স্থানীয় এক ব্যক্তি সংযোগ স্থাপন করতে বাঁধা দেন। গত ২১ আগস্ট পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান সেখানে গেলে তাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। ফলে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখানে আর সংযোগ দিতে পারেনি।
পরে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিঠি প্রেরণ করেন। পল্লী বিদ্যুতের চিঠির আলোকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের সংযোগ দিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে গতকাল রোববার নিজে উপস্থিত থেকে সংযোগ প্রদান করেন।
এসময় চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে দেশে উন্নয়নের মহাসড়কে অবস্থান করছে। সেজন্যই দেশে শিক্ষা বিস্তারের জন্য নতুন নতুন বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে। এ ধরনের বহুতল সুন্দর ভবন নির্মাণ করে যদি বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে স্থানীয়ভাবে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়, সেটা সত্যি দুঃখজনক। আপনারা যারা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কমিটির দায়িত্ব রয়েছেন তাদের এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুতকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা প্রয়োজন ছিলো।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার দেব কুমার মালো বলেন, বর্তমান সরকারের অঙ্গীকারই হচ্ছে শতভাগ বিদ্যুৎ। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিষয়ে তো বেশি-বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, শিক্ষা বিস্তারের জন্য দিনে দিনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। এ বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে স্থানীয় কিছু জটিলতা দেখা দেয়। সেটা সমাধান করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নতুন ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে যারা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগম, সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মানছুর আহমেদ, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) এমএস মালিক মো. ইয়াহীয়া, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মো. মাসুদুর রহমান, স্থানীয় গণ্যমান্য কাজী মাহবুব আলম মুন্না, শিমুল কাজী, রাসেল কাজী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোদেজা বেগমসহ শিক্ষকবৃন্দ ও এলাকাবাসী।
অযাচিত বাঁধা উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ সচেতন এলাকাবাসী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনে বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটিসহ অন্যান্য কমিটির নেতৃবৃন্দরা ছিলেন রহস্যজনক কারণে নীরব। এতে বিদ্যালয় ভবনে নতুন স্থাপিত বিভিন্ন বৈদ্যুতিক জিনিসগুলো ব্যবহার তো দূরের কথা সেগুলো পরীক্ষা করারও কোন ব্যবস্থা ছিলো না। এর মধ্যে রয়েছে নতুন করে স্থাপন করা বৈদ্যুতিক পাখা ও বাল্ব। এছাড়া ডিজিটাল হাজিরা মেশিনও স্থাপন করা যাচ্ছিলো না।
পল্লী বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টসহ অন্যান্যরা জানান, বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষদের হয়রানি করতে টাউট-বাটপার শ্রেণির অনেকে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ স্থাপন ও পুনঃস্থাপনে বাঁধা দেন। এতে মানুষজন যেমন বিদ্যুৎ পাচ্ছে না, তেমনি সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মতো সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০।
