গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা
স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর শহরতলীর তরপুরচন্ডী এলাকায় অগ্রদূত সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি দির্ঘদিন ধরে সমবায়ী রেজিস্ট্রেশন ছাড়া অবৈধভাবে ঋণ কার্যক্রম করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, এ সমিতিটি ২০০৭ সালে নিবন্ধন পায়। এরপর ২০১১ সাল পর্যন্ত কার্যক্রম চালায়। এর মধ্যে সমিতিটির কোন অডিট না থাকায় ২০১৪ সালে নিবন্ধন বাতিল হয়। সমিতির সভাপতির ভাগিনা ইয়ার আহমেদ (লিক্সন) ব্র্যাকের টাকা আত্মসাৎ করে ২০১৮ সালে নিবন্ধন ছাড়াই ম্যানেজার ও মালিক সদস্য হয়ে এ সমিতিটি পুনরায় চালু করেন।
২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর ২১ জন শেয়ার সদস্যর নাম দিয়ে আবারো নিবন্ধনের জন্য চাঁদপুর সদর উপজেলা সমবায় অফিসে আবেদন করেন। কিন্তু অদ্যাবধি সমিতিটির নিবন্ধন হয়নি। অথচ তারা অবৈধভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের লাখ-লাখ টাকা সঞ্চয় উত্তোলন করে আসছে। ম্যানেজারের অনৈতিক ও অসদাচরণের কারণে গত ২৪ মার্চ সমিতির ৩ জন সদস্য- হালিদা আকতার, শাহীদা আক্তার ও মায়মুনা রহমান পদত্যাগ করেন এবং জেলা সমবায় অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেন যাতে নিবন্ধনে তাদের নাম যেন সংশ্লিষ্ট না করা হয়।
রামপুরের পারভিন নামে এক নারী ৩০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। এর বিপরীতে ইয়ার আহমেদ লিক্সন তার কাছ থেকে স্বাক্ষরিত খালি স্ট্যাম্প ও ৩টি চেক নেন। পরিশোধকৃত টাকার পর ১৮ হাজার টাকা পাওনার বিপরীতে ৩ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার করে চাঁদপুর আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। যার নং- সিআর ৫৫৭/২০।
তরপুরচন্ডী এলাকার আম্বিয়া ও মিজান মাস্টারের বিরুদ্ধেও ঋণের ১০ গুণ বেশি ধরে মামলা করেন সমিতির ম্যানেজার ইয়ার আহমেদ লিক্সন। এছাড়া করোনার মহামারিতে ২ শতাধিক গ্রাহকের বিরুদ্ধে ঋণের কয়েকগুণ সুদ ধরে উকিল নোটিশ করেন।
পারভিন বেগম ও আম্বিয়া বেগম গত ২৪ মার্চ চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ১ মার্চ চাঁদপুর মডেল থানার এসআই আওলাদ ঘটনাস্থলে যান এবং এসব বিষয়ে প্রশ্ন করলে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি ইয়ার আহমেদ। গ্রাহকের সরলতার সুযোগ নিয়ে চেক ও স্ট্যাম্প দিয়ে জিম্মি করে বহু গ্রাহক থেকে ঋণের কয়েকগুণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।
সমিতির নিবন্ধনের বিষয়ে শেয়ার মালিক ও ম্যানেজার ইয়ার আহমেদ লিক্সনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি সমিতির নিবন্ধন নাই বলে স্বীকার করেন। মামলার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে কোন সদুত্তর না দিয়ে সমিতির সভাপতির সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলেন।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বাতেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের সাথে মুঠোফোনে অনিবন্ধিত সমবায় সমিতি ঋণ কার্যক্রম করতে পারবে কিনা মর্মে জানতে চাইলে তিনি জানান, নিবন্ধন ছাড়া ঋণ তো দূরের কথা কোন রকম কার্যক্রম করতে পারবে না। যেহেতু বিষয়টি আমরা জানতাম না, তাছাড়া আমি মাত্র ৬ মাস হলো যোগদান করেছি এবং আপনার মাধ্যমে যেহেতু বিষয়টি জানতে পারলাম অবশ্যই আমরা ওই সমিতির কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য চিঠি ইস্যু করবো এবং পরবর্তীতে সমিতির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।
জেলা সমবায় অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ইমরান হোসেন জানান, যাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে তারা সমবায়ের ব্যানারে কোন কার্যক্রম করতে পারে না। যদি করে থাকে তা সম্পূর্ণ বেআইনী।
০৪ এপ্রিল, ২০২১।
