অসুস্থ হচ্ছে অনেকেই : চাঁদপুরের তাজ হোটেলে বাসি খাবার বিক্রি

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কে সাউথ প্লাজার নিচতলায় তাজ হোটেলের খাবারের মান নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ উঠেছে। অবিক্রিত খাবার পুনরায় বিক্রি করা এবং খাবারের মান যাচাই-বাছাই না করে ক্রেতাদের মাঝে পরিবেশন করার কারণে অনেকেই এই হোটেলের খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি এই হোটেলে চাঁদপুর শহরের ৪ জন সাংবাদিক হালিম খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই নিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঐ সাংবাদিকরা বিষয়টি হোটেলের ক্যাশে বসা ম্যানেজারকে জানালে তিনি বাসি খাবার বিক্রির কথা অস্বীকার করেন। কিন্তু এর আগেই খাবার সময় সাংবাদিকরা হোটেল বয়দের কাছে জানেন যে, তারা বাসি হালিম বা অন্যান্য খাবার কখনো ফেলেন না। আগের দিনের অবিক্রিত খাবার পরের দিনের খাবারের সাথে মিলিয়ে বিক্রি করেন।
শহরের বিভিন্ন সড়ক ও জনবহুল এলাকায় খাবার হোটেল গড়ে উঠলেও এসব হোটেলগুলোর খাবার মান নিয়ে কোন ধরনের সরকারি মনিটরিং নেই। যার কারণে ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছেমত ভোক্তাদের ঠকাচ্ছে।
কিছুদিন আগে এই হোটেলে কয়েকজন ভোক্তা তাদের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করলেও হোটেলের ম্যানেজার কোন সঠিক উত্তর কিংবা সমাধান দেননি। বরং ভোক্তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গ্রিল খাওয়ার জন্য অনেক দূর থেকে এসেছিলো কয়েকজন ভদ্রলোক। তাদের পুরাতন বাসি গ্রিল পরিবেশন করলে ভদ্রলোক খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। হোটেল শ্রমিকরা অভিনব কায়দায় পুরাতন খাবার গরম করে পরিবেশন করে। এ ধরনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
পরিচয় গোপন রেখে ওই হোটেলের স্টাফদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, প্রত্যেক দিনের অতিরিক্ত থেকে যাওয়া খাবারগুলো ফ্রিজে সংরক্ষিত করে রাখা হয়। তার পরদিন এই খাবারগুলোকে গরম করে কাস্টমারের সামনে পরিবেশন করেন। কিন্তু এই খাবার খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়।
অসুস্থ হওয়া সাংবাদিকদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, আমরা একই সাথে হালিম খেয়েছি। রাত থেকেই সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ি। দু’জনকে তো স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ খেতে হয়েছে।
এ বিষয়ে হোটেলের মালিক ইব্রাহীম খলিল বলেন, আমার কাছে খাবারের মান নিয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। আমাদের হোটেলের অনেক সুনাম রয়েছে। এই হোটেল থেকে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে খাবার যায়। আমি নিজেও প্রতিদিন আমার হোটেলে এসে সকালে নাস্তা করি।