আ. ছোবহান লিটন
আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন। মোট ৩১ হাজার ৭৮ জন ভোটার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাদের
ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, আনসার ও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ফোর্স প্রতিটি কেন্দ্রে অবস্থান করছে। রোববার ভোরে স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পৌঁছে দিবে।
এছাড়া নির্বাচনে মোট ৯টি ওয়ার্ডের ১৩টি কেন্দ্রের জন্য ১৩ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৮৮টি বুথের জন্য ৮৮জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ১৭৬জন পোলিং অফিসার নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. ইমাম হোসেন পাটওয়ারী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাতপাখা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মুক্তিযোদ্ধা হাফেজ মো. দেলোয়ার হোসেন।
কাউন্সিলরর পদে ৬৪ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরর পদে মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
২০০৫ সালে ফরিদগঞ্জে পৌরসভায় উন্নীত করা হয়। সে মতে পৌরসভার এটি তৃতীয় নির্বাচন। ১৯.৭৫ বর্গ কি.মিটারের ৯টি ওয়ার্ডে ২০টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩১ হাজার ৮৪ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১৫ হাজার ৯ শ’ ৩৪ জন ও নারী ভোটার রয়েছেন ১৫ হাজার ১শ’ ৫০ জন।
সংরক্ষিত ৩টি আসনের ১১জন প্রার্থীরা হলেন- ১নং ওয়ার্ডে কুসুম বেগম (জবা ফুল), জান্নাতের নেছা (চশমা), রজিনা (টেলিফোন) ও শাহীন আক্তার (আনারস), ২নং ওয়ার্ডে খতেজা বেগম (চশমা), সাবিনা ইয়াছমিন (জবা ফুল) ও হাছিনা আক্তার (আনারস) এবং ৩নং ওয়ার্ডে গীতা রানী দাস (টেলিফোন), ফাতেমা বেগম (চশমা), মাহমুদা বেগম (জবা ফুল) ও সেলিনা আক্তার যুথী (আনারস)।
পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলরর পদে ৬২জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
১নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩৬৬৪ তার মধ্যে পুরুষ ১৯২৯ ভোট ও নারী ১৭৩৭ ভোট। এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন ১০জন। তারা হলেন- ওমর ফারুক (ব্রিজ), আক্তার হোসাইন (পানির বোতল), আমিনুল হক (উঠ পাখি), আরিফ হোসেন প্রতিক (গাজর), আলমগীর হোসেন (পাঞ্জাবী), ইসমাইল হোসেন (টেবিল ল্যাম্প), নুরুজ্জামান (ঢেঁড়শ), মোস্তফা কামাল সুমন (ফাইল কেবিনেট) ও শাহ জালাল (ডালিম)।
২নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২৭৯৪। তার মধ্যে পুরুষ ১৩৮৭ ভোট ও নারী ১৪০৭ ভোট। এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন ৮ জন। তারা হলেন- আবদুর রব (ডালিম), আবুল হাসেম (পাঞ্জাবী), রুবেল মিয়াজী (উঠপাখি), সাইফুর রহমান (পানির বোতল), সারোয়ার হোসেন (ফাইল কেবিনেট), হারুনুর রশিদ (ব্রিজ), হুমায়ুন কবির (টেবিল ল্যাম্প) ও রাশেদ (ব্লাক বোর্ড)।
৩নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩,৩০১। তার মধ্যে পুরুষ ১,৭২১ ভোট ও নারী ১,৫৮০ ভোট। এই ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ২টি। কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন ৪জন। তারা হলেন- ইউনুছ বেপারী (পানির বোতল), জায়েদ হোসেন (ডালিম), মহসিন তালুকদার (পাঞ্জাবী) ও জয়নাল আবেদীন (উঠপাখি)।
৪নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৪,৫০৮। তার মধ্যে পুরুষ ২,৩৪৪ ভোট ও নারী ২,১৬৪ ভোট। এই ওয়ার্ডে পুরুষ ও নারীদের আলাদা আলাদা ভোট কেন্দ্র রয়েছে। কাউন্সিলরর পদে নির্বাচন করছেন ৬ জন। তারা হলেন এসএমএম ফজলে ফজলে রাব্বী (ডালিম), আবদুল মান্নান (উঠপাখি), আবু তাহের (ফাইল কেবিনেট), শফিকুল ইসলাম (ব্ল্যাক বোর্ড) ও শাহ জাহান মিজি (পাঞ্জাবী)। তবে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ে প্রত্যাহার না করলেও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মো. বিল্লাল (পানির বোতল) প্রতীকের প্রার্থী।
৫নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২,৮৮৫। তার মধ্যে পুরুষ ১,৪৭৫ ভোট ও নারী ১,৪১০ ভোট। এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলরর পদে নির্বাচন করছেন ৬ জন। তারা হলেন- মনির হোসেন গাজী (গাজর), আবুল হাসান (পাঞ্জাবী), আমিন হোসেন (ব্ল্যাক বোর্ড), খলিলুর রহমান (ডালিম), জাহিদ হোসেন (পানির বোতল) ও সোহেল দেওয়ান (উঠপাখি)।
৬নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২,০৬৩। তার মধ্যে পুরুষ ১,০৭৫ ভোট ও নারী ৯৮৮ ভোট। এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন ৪ জন। তারা হলেন- আল-আমিন মোল্লা (উঠপাখি), মাহাবুব আলম (পানির বোতল), মাজহারুল আলম (টেবিল ল্যাম্প) ও মজিবুর রহমান (পাঞ্জাবী)।
৭নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২,৭৬০। তার মধ্যে পুরুষ ১৩৭৫ ভোট ও নারী ১৩৮৫ ভোট। এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন ১০ জন। তারা হলেন আহছান উল্যাহ্ (টিউব লাইট), কাজী কাউছার (ব্ল্যাক বোর্ড), আলী হায়দার পাঠান টিপু (টেবিল ল্যাম্প), মোহাম্মদ হোসেন (পানির বোতল), এমরান হোসেন (পাঞ্জাবী), জহির হোসেন মিজি (ফাইল কেবিনেট), জাকির হোসেন (গাজর), তাজুল ইসলাম (উঠপাখি), মশিউর রহমান (ডালিম) ও এসএম সোহেল রানা (ব্রিজ)।
৮নং ওয়ার্ড ভোটার সংখ্যা ৪,৩৭৭। তার মধ্যে পুরুষ ২,২৪৯ ভোট ও নারী ২,১২৮ ভোট। এই ওয়ার্ডে কেন্দ্র ২টি। কাউন্সিলরর পদে নির্বাচন করছেন ৮ জন। তারা হলেন- সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ক্রীড়া সংগঠক আমান উল্যা আমান (ডালিম), মাহাবুব আলম (ব্ল্যাক বোর্ড), উৎফল চন্দ্র দাস (ঢেঁড়শ), কামরুল ইসলাম (টেবিল ল্যাম্প), দিলীপ চন্দ্র দাস (পানির বোতল), মফিজ উদ্দিন জনি (ব্রিজ), মিজান পাটওয়ারী (পাঞ্জাবী) ও জাকির হোসেন গাজী (উঠপাখি)।
৯নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৪,৭৩২। তার মধ্যে পুরুষ ২,৩৮১ ভোট ও নারী ২,৩৫১ ভোট। এই ওয়ার্ডে কেন্দ্র ২টি। এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলরর পদে নির্বাচন করছেন ৬ জন। তারা হলেন- আবু জাফর (টেবিল ল্যাম্প), রসু মিয়া (পানির বোতল), তোফয়েল আহাম্মেদ (ব্ল্যাক বোর্ড), মাসুদ আলম ভূঁইয়া (উঠপাখি), মাহমুদুল হাছান মঞ্জু (পাঞ্জাবী) ও মো. সাজ্জাদ হোসেন (ডালিম)।
থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদ হোসেন জানান, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার নিয়ে ৫ স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজিবি ১শ’ ২০ জন, এপিপিএন (সাদা পোষাকধারী) ১৫ জন, র্যাব ৩০ জন, পুলিশ ৩শ’ ২ জন এবং আনসার ১শ’ ১৫ জন মোতায়েন রয়েছে।
এ মুহূর্ত পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অক্ষুণ্ন রয়েছে। আশা করছি শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।
উপজেলা রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং জানান, ভোটের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে।
১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১।
