স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর শহরে আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে চৌধুরী ঘাট ডাকাতিয়া নদীতে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। সন্ধ্যার মধ্যে বিসর্জন সম্পন্ন করা হয়। ঢাকের তালে শিশু-কিশোররা নেচে আনন্দ-উদ্দীপনা করে ট্রাক, রিক্সা-ভ্যানে করে দুর্গা প্রতিমূর্তি শহর প্রদক্ষিণ করে চৌধুরী ঘাট ডাকাতিয়া নদী পারে নিয়ে পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে নদীতে বিসর্জন করা হয়। এর আগে দুপুরের পর থেকে বিবাহিত নারীরা দুর্গা প্রতিমার কপালে তেল, সিঁদুর পরাতে ব্যস্ত সময় পার করে। মায়ের মুখ রাঙ্গিয়ে তোলে। পাশাপাশি নারীরা নিজেরাই সিঁদুর খেলায় মেতে উঠে।
দুর্গাপূজার সবশেষ রীতি হলো দেবী বরণ। এ রীতি অনুযায়ী সধবা নারী স্বামীর মঙ্গল কামনায় দশমীর দিন সিঁদুর, পান, তেল ও মিষ্টি নিয়ে দুর্গা প্রতিমায় সিঁদুর স্পর্স করান। সকালে দশমীবিহিত পূজায় মন্দিরে-মন্দিরে ঢাক ঢোল কাঁশরের বাজনায় কেবলি পূজা করা হয়। তাবে কুমিল্লা, হাজীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্খিত ঘটনায় মণ্ডপগুলোতে নামমাত্র পূজা করা হয়েছে। গত শুক্রবার জুমার নামাজ থাকায় চাঁদপুরে প্রশাসন ছিল কঠোর অবস্থানে। যার ফলে বিকাল ৩টা থেকেই বিসর্জনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। চৌধুরী ঘাটের ডাকাতিয়া নদীতে বিসর্জন দেয়া হয় কালিবাড়ী মন্দিরের প্রতিমা, গোপাল জিউর আখড়া মন্দিরের প্রতিমা, প্রতাপ সাহা রোড লোকনাথ মন্দিরের প্রতিমা, পালপাড়া শীতলা মন্দিরের প্রতিমা, মেথা রোড মন্দিরের প্রতিমা, স্বর্ণখোলা রোড হরিজন পল্লীর প্রতিমা, ডগলাইন হরিজন পল্লীর প্রতিমা।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রোটারিয়ান সুভাষ চন্দ্র রায় বলেন, আমরা চাঁদপুর শহরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিজয়া দশমীতে দুর্গা বিসর্জন সম্পন্ন করেছি। সেজন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও চাঁদপুর পৌর পরিষদকে ধন্যবাদ জানাই।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি নরেন্দ্র নারায়ন চক্রবর্তী, প্যানেল মেয়র ফরিদা ইলিয়াস, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিমল চৌধুরী, চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আ. রশিদ, দপ্তর সম্পাদক রনজিৎ সাহা মুন্নাসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের কর্মকর্তারা।
১৭ অক্টোবর, ২০২১।
