চাঁদপুর জেলা ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লার নানুয়ার দিঘীরপাড় পূজামণ্ডপে মূর্তির পায়ের নিচে পবিত্র কুরআন রেখে অবমাননা ও হাজীগঞ্জে ঐ ঘটনার প্রতিবাদকারী জনতার উপর গুলি ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখা। গত শুক্রবার বিকেল ৪টায় শহরের বিপণীবাগস্থ চাঁদপুর জেলা ইসলামী আন্দোলন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, জাতির বিবেক সাংবাদিক ভাইয়েরা বর্তমান আধুনিকতার এই যুগে সাংবাদিকরা শুধুমাত্র সংবাদ সংগ্রহ পরিবেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সরকার ও দেশ গঠনে নির্বাহী আইন ও বিচার বিভাগের ন্যায় সংবাদ মাধ্যমটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক যুগে আমরা কম বেশি সবাই মিডিয়া নির্ভর। তাই সংবাদ পরিবেশনের ধরনের উপর একটি জাতির কল্যাণও হতে পারে আবার ক্ষতিও হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আপনারা নিশ্চয় জানেন ইসলাম শান্তি, মানবতা ও নিরাপত্তার ধর্ম। ইসলাম অন্য কোন ধর্মের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে নিষেধ করেছে। এমনকি ইসলামের নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ব্যক্তির অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে জোর করে ইসলামে দীক্ষিত করার ব্যাপারে নিষেধ করেছেন। ইসলাম সহনশীল, সহানুভূতি ও নিরাপত্তার ধর্ম। যার কারণে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নেতৃত্বে মদিনায় ইসলামী শাসন কায়েম হওয়ার পর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের লোকজন শুধুমাত্র তাদের জান-মাল, ইজ্জত ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় ইসলামী ভূখণ্ডে আশ্রয় নিয়েছিলো।
শেখ জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রত্যেক ধার্মিকদের মাঝে কিছু কিছু বিষয় আবেগপূর্ণ এবং ঈমান সংশ্লিষ্টও । যেমন ধর্মগ্রন্থ, মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ইত্যাদি। মুসলমানদের কাছে মহান আল্লাহ তা’আলা, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, পবিত্র কোরআন, মসজদি, মাদ্রাসা ইত্যাদি বিষয় ভালোবাসা এবং ঈমান সংশ্লিষ্ট। এসব বিষয়ে কেউ কটুক্তি, বিদ্রুপ, অবমাননা, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করলে মুসলমানদের হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ হয়। আমরা লক্ষ্য করছি এই র্স্পশকাতর জায়গাগুলোতে বারবার আঘাত করে মুসলমানদের সাথে বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় দাঙ্গার পরিবেশ তৈরি করতে চায় একটি চক্রবদ্ধ গোষ্ঠী। ভোলা, ময়মনসিংহ, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী প্রকৃত দোষীরা থেকে গেছে অধরা। বরং অবমাননার প্রতিবাদে নামা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপর নেমে এসেছে হামলা-মামলার পরোয়ানা। এতে ধর্ম বিদ্বেষীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননা ও হাজীগঞ্জে বিক্ষুব্ধ জনতার উপর নির্বিচারে গুলি ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ বিশাল সমাবশে ও বিক্ষোভের ডাক দিতে পারতাম, কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল ও গণমানুষের আস্থার রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে কোন ঘটনা ঘটার পর তার সত্যতা ও বাস্তবতা নীবিড় পর্যবেক্ষণ ব্যতীত কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করাকে যুক্তিযুক্ত মনে করে না। গত বৃহস্পতিবার হাজীগঞ্জে যে ঘটনা ঘটেছে স্থানীয় ও মিডিয়ার তথ্যমতে তাতে ৪জন নিহত এবং অসংখ্য মুসল্লি আহত হয়েছে। নিহতরা হলো- মো. শামীম (১৯), হৃদয় হোসনে (১৫), আল আমনি (১৮), বাবুল (৩৮)। আমরা লক্ষ্য করছি যে হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা এখনো শেষ হয়নি। তাই এই মুহূর্তে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। তৈরি হতে পারে বিশৃঙ্খলাও। ফলে পূজার আনুষ্ঠানিকতায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
তাই আমরা এ সংবাদ সম্মলেন থেকে আপনাদের মাধ্যমে সরকারকে আমাদের দাবিসমূহ জানিয়ে দিতে চাই-
১. কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কুরআন অবমাননাকারী প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করে অনতিবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। নিরীহ কোন ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
২. হাজীগঞ্জে বিক্ষুব্ধ জনতার উপর গুলিবর্ষণের হুকুমদাতাসহ প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
৩. কোরআনের ইজ্জত রক্ষার আন্দোলনে যারা নিহত হয়েছে তাদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং যারা আহত হয়েছে তাদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে ইসলাম ও দেশবিরোধী সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে রুখতে দাঁড়াতে হবে।
৫. আল্লাহ, আল্লাহর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, কুরআন ও ইসলামের বিভিন্ন বিষয় অবমাননাকারী এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে সংসদে আইন পাস করতে হবে।
যত দ্রুত সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিবে ততই দেশ ও দশের জন্য মঙ্গল হবে নচেৎ উদ্ভূত পরস্থিতিরি জন্য সরকারকেই সব দায় বহন করতে হবে। আমাদের দাবি পূরণে সরকার আন্তরকিতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রিয় সিদ্ধান্তের আলোকে কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সেক্রেটারী কে এম ইয়াসিন রাশেদসানীর পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি গাজী মুহাম্মাদ হানিফ, অর্থ সম্পাদক মামুনুর রশিদ বেলাল, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাও. গাজী নাসির উদ্দিন, সহ-অর্থ সম্পাদক আসাদুল্লাহ সুমন, আইন সম্পাদক অ্যাড. শফিক উদ্দিন মিয়া, জেলা যুব আন্দোলন সভাপতি হেলাল আহমাদ, জেলা ছাত্র আন্দোলন সভাপতি সেলিম হোসাইন, সদর উপজেলা সভাপতি ডা. বেলাল হোসাইন, শহর আন্দোলন সভাপতি আবু নাঈম তানভীর, শহর সেক্রেটারী শরীফ মৃধা প্রমুখ।
এসময় ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

১৭ অক্টোবর, ২০২১।