আমাদের একা হিসেবে পরিচয় বা অস্তিত্ব নেই ……………….ড. মশিউর রহমান


স্টাফ রিপোর্টার
চরিত্র গঠন আন্দোলনই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় শীর্ষক ধর্মীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার চাঁদপুর অযাচক আশ্রমে স্বরূপানন্দের ২ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপনী দিন এ ধর্মীয় আলোচনায় সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
আশ্রমের অধ্যক্ষ কবিরাজ সুখরজ ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, চরিত্র গঠনে অনেকে বলেছেন মায়েদের দায়িত্বের কথা। শুধু মায়েদের নয় বাবারাও চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। বাবা-মা যদি শ্রদ্ধার সাথে ঘরে কথা বলে তাহলে তাদের সন্তানরাও সুন্দরভাবে কথা বলবে। সন্তান তখন বুঝবে যে সমাজে বাস করি তাদের সম্মান করবে। আমরা সবাই সমাজে বাস করি। কেউ বলতে পারবে নিজের নামে পরিচিত হয়েছে। আমাদের একা হিসেবে পরিচয় বা অস্তিত্ব নেই। আমাদের অস্তিত্ব সামাজিক গোষ্ঠী হিসেবে। শুধু নাম দিয়ে কেউ কারও পরিচয় নেই। সমাজে সাথে পরিচয়। আমরা যেখান থেকে পরিচয় সেই সমাজে পরিচিত হব সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে। এই অযাচক আশ্রমের সথে ও কর্মখাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত তারা স্বরূপা নন্দের বানীতে তারা পরিচয়। স্বরূপানন্দের আদর্শ ছিল ভাল মানুষ হওয়া। আমি যদি কারও কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে পরিশোধ না করি তাহলে আমি চরিত্রবান হব না। সমাজের ভিত্তি হলো মায়া মমতা। স্বরূপানন্দ সেদিকে আমাদের দৃষ্টি দিয়েছেন। যখন আমি বিদ্যালয়ে পড়ি তখন সহপাঠীরা কেমন তা বুঝতে পারতাম না। যখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তাম তখন বন্ধু ছিল বৌদ্ধ, হিন্দু ও মুসলিম। সবার সাথে তাদের উৎসবে আমন্ত্রন জানাত। আমরা সেখানে গিয়ে আনন্দ করতাম। আমাদের সমাজের ধর্মীয় প্রতিহিংসা এসেছিল। নেতৃত্বে আঘাত আনতে পারেনি। সবাইকে একত্রে এনে সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে অংশীদার করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কাল বই উৎসবে যখন বই পাবে তখন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বইয়ের গন্ধ পাবে। সবাই একই গন্ধ পায়। আমরা সবাই এক। আমাদের সমাজে দায়িত্ব হলো ব্যবহারযোগ্য সব কিছুতে সহযোগিতা করা। আমাদের প্রজন্ম যেন তাতে পথ চলতে পারে। আমাদের সৌভাগ্য এদেশ স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নত হচ্ছে। আমাদের সন্তানরা সঠিকভাবে শিক্ষা পাচ্ছে। স্বরূপা নন্দের বাণী যা বুঝি তা হলো সমাজকে সামনের দিকে নিতে কাজ করা। আমরা যদি এ বাণী মেনে চলি তাহলে সবস্থানে শান্তি বিরাজ করবে। হিংসা বিদ্বেষ ভুলে সমাজে এগিয়ে নিতে হবে।
দুলাল দাসের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস.এম জাকারিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাড. বিনয় ভূষণ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রঞ্জিত রায় চৌধুরী, বাংলাদেশ অখণ্ড সংগঠনের সদস্য সচিব সুজিত কুমার দে প্রমুখ।