ভোরের চোখ,ঢাকাঃ আসন্ন কাউন্সিলে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আসছে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে। বর্তমানে সাতজন সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে পাঁচজনই বাদ পড়তে পারেন। আর এ পদে আসতে পারে নতুন মুখ। আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, সাংগঠনিক সম্পাদকরা বেশিরভাগই দু’মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তৃতীয় মেয়াদে এদের রাখার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিশেষ করে গত কয়েকটি কাউন্সিলের চিত্র দেখলে তা-ই প্রমাণ মেলে। ফলে কাউন্সিলের ঝড়টা এবার বইবে তাদের উপর দিয়েই। দলের একজন যুগ্ম সম্পাদক জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের বিগত দিনগুলোর দিকে তাকালে সবচেয়ে পরিবর্তনশীল পদ হচ্ছে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ। সেটা যখন মোহাম্মদ নাসিম একক দায়িত্বে ছিলেন তখনও যেমন ঘটেছে, তেমনি পরবর্তী ছয় সাংগঠনিক সম্পাদকের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। আর বর্তমানে যারা সাংগঠনিক সম্পাদক তারা অপেক্ষাকৃত তরুণ। এদের কাউকেই প্রেসিডিয়াম সদস্য কিংবা যুগ্ম সম্পাদক পদে পদোন্নতি দেয়া যাচ্ছে না। আবার যুগ্ম সম্পাদকদের কাউকে প্রেসিডিয়ামে নেয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে দুই মেয়াদে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন বিএম মোজাম্মেল হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আহমেদ হোসেন, মেসবাহ উদ্দিন সিরাজ, বীর বাহাদুর উশে শিং।
এক মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন বাহাউদ্দিন নাসিম। এর আগে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করা সাবের হোসেন চৌধুরী, সুলতান মো. মনসুর, আব্দুর রহমান, মাহমুদুর রহমান মান্না, বীর বাহাদুর একসঙ্গে দায়িত্ব থেকে বাদ পড়েছিলেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, প্রথমবারের কারনে বাহাউদ্দিন নাসিম, আঞ্চলিকতার কারনে বীর বাহাদুর ছাড়া বাকি সবারই বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএম মোজাম্মেলকে পদোন্নতি দেয়া সম্ভব না হলে সম্পাদকীয় পদে রাখা হতে পারে। রাজশাহী বিভাগে আবু সাঈদ মাহমুদ আল স্বপনের জায়গায় রাজশাহীর সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন অথবা তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নাম আলোচিত হচ্ছে। রংপুর বিভাগে খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর স্থলে সংসদের হুইপ ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবালুর রহীম, সিলেট বিভাগে সংসদ সদস্য আবু জাহির, খুলনা বিভাগে সোহেল, বরিশাল বিভাগে উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক করার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বরিশাল ও খুলনা বিভাগে দলীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নেই। বিএম মোজাম্মেল হক খুলনা এবং বাহাউদ্দিন নাসিম বরিশালের দায়িত্ব পালন করছেন। বাহাউদ্দিন নাসিমকে যুগ্ম সম্পাদক করা হতে পারে এমন একটি গুঞ্জনও রয়েছে। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু ও প্রয়াত নেতা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকের নাম আলোচিত হচ্ছে। প্রসঙ্গত: আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদটি এক সময়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতার মর্যাদায় ভাবা হতো। তখন একটি পদ ছিল। পরে তা বাড়িয়ে ছয়টি এবং সর্বশেষ সাতটি করার পরে এদের অবস্থান নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ সম্পাদকীয় পদে অনেক সিনিয়র নেতারা দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেক্ষ্য, উপমন্ত্রী জনাব আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ১৯৭২ সালের ২১ ডিসেম্বর ভোলা জেলার চরফ্যাসনের জিন্নাগড় ইউনিয়নে (বর্তমানে চরফ্যাসন পৌরসভা) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম অধ্যক্ষ এম এম নজরুল ইসলাম এবং মাতা বেগম রহিমা ইসলাম। তিনি একটি শিক্ষানুরাগী ও রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা একাধিকবার নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য এবং চরফ্যাসন মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন। জনাব জ্যাকব রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএসএস ডিগ্রী অর্জন করেন। জনাব আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ২০১৪-এ অনুষ্ঠেয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১৮ ভোলা-৪ থেকে ২য় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১২ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় উপমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে তিনি ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং অদ্যাবধি উক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নবম জাতীয় সংসদেরও সদস্য ছিলেন। উক্ত সংসদে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জনাব আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব তাঁর নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও প্রশাসনিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় শশীভূষণ ও দক্ষিণ আইচা নামে দুটি নতুন থানা গঠন, জনগণের নিরাপত্তা ও নৌ ডাকাতি রোধে চরফ্যাসনের ঢালচর ও কুকরি মুকরিতে ২টি এবং মনপুরার কলাতলীতে ১টি, মোট ৩টি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করেছেন। ৮টি নতুন ইউনিয়ন পরিষদ গঠন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২ ভোলা জেলা থেকে চরফ্যাসনে স্থানান্তর, চরফ্যাসন পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীতকরণ, দেওয়ানী, ফৌজদারী ও যুগ্ম জেলা জজ কোর্ট চরফ্যাসনে স্থানান্তর, শশীভূষণে ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের সাব স্টেশন স্থাপন, ৩২২ কি.মি. পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুতের লাইন সম্প্রসারণ। ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, ১০০০ মে.টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন খাদ্য গুদাম, অত্যাধুনিক অডিটরিয়াম ও আধুনিক কোর্ট বিল্ডিং নির্মাণ ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে তিনি মায়া নদীর উপর ৩১ কোটি ও ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি ব্রীজ নির্মাণসহ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার রাস্তাঘাট, পুল, কালভার্ট নির্মাণ করেছেন। চরফ্যাসন-মনপুরার প্রায় ৯০% রাস্তা তিনি পাকা করেছেন। চরফ্যাসন ও মনপুরা বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত একটি দ্বীপাঞ্চল। নদী ভাঙ্গন এখানকার একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা হিসেবে চিহিুত। তিনি চরফ্যাসন-মনপুরা নদী ভাঙ্গন রোধে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের ব্যবস্থা নিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন। পর্যটন শিল্পের বিকাশে তাঁর আগ্রহ উল্লেখযোগ্য।
তিনি চরফ্যাসন উপজেলা সদরে নির্মাণ করেছেন উপমহাদেশের সর্বোচ্চ টাওয়ার মিনার, যার কার্যক শেষ পর্যায়ে। নির্মাণ শেষ হলে এর উচ্চতা হবে ২২৩ ফুট। উক্ত টাওয়ারের সন্নিকটে সুইমিং পুলের আদলে “ফ্যাসন স্কয়ার” নামে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। এছাড়াও তিনি ইতোমধ্যে মনপুরা ও চর কুকরি মুকরিতে ক্যাবল কার, ইকো পার্ক, গলফ মাঠ, সুইমিংপুলসহ সর্বাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন, জাতিসংঘ আয়োজিত রিও-২০ কনফারেন্স, আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন, বাণিজ্য সম্মেলনে বিভিন্ন সময়ে সরকারি ও সংসদীয় প্রতিনিধি দলে এবং ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া, জাপান, অষ্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জার্মানী, অষ্ট্রিয়া, ইতালী, ফ্রান্স, স্পেন, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস্, গ্রীস, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্ডিয়া, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, কাতার, সৌদি আরব, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, সিংগাপুর, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, এস্তোনিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, ব্রুনেই, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, কেনিয়া,মায়ানমার, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, লুক্সেমবার্গ, নরওয়ে, চেক রিপাবলিক, হাঙ্গেরী, লাওস, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া, তানজানিয়া, জিম্বাবুয়ে, জাম্বিয়া, বতসোয়ানা, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্থান, কাজাখস্থান, পানামা, চিলি, পর্তুগাল, রুমানিয়া, মোনাকো, সাইপ্রাস, মরক্কো, রিপাবলিক অফ কঙ্গো, বুলগেরিয়া ও মরিশাস ভ্রমণ করেন।’
