ঈদ বাজার : চাঁদপুরে মার্কেটগুলো জমে উঠেছে


এস এম সোহেল
আকাশে রোদ-মেঘের খেলা। সঙ্গে ভ্যাপসা গরম। এর মধ্যেও ফ্যাশন সচেতন নারী-পুরুষ তাদের পছন্দের পোশাক কিনতে ক্লান্তিহীন ছুটছেন এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে। দেশের ইলিশের রাজধানীর চাঁদপুরের মার্কেটগুলোতে ক্রেতা সমাগম আর উপচেপড়া ভিড়ে জমে উঠার কথা ঈদ বাজার। ধনী-গরিব সবাই এখন ঈদের কেনাকাটায় মহাব্যস্ত। ঈদের আগে শুক্রবার আছে মাত্র আর একটি। তাই রমজানের এসময় মার্কেটে কেনাকাটায় ঝাঁপিয়ে পড়ার কথা মার্কেটগুলো। কিন্তু লাগাতার গরমো কারণে ক্রেতারা মার্কেটে দিনের বেলাতে প্রবেশ কম করলেও বিকেলে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
শহরের হাকিম প্লাজা, হকার্স মার্কেট, মীর শপিং, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, পূরবী মার্কেট, সাউথ প্লাজা, পৌর সুপার মার্কেট, চাঁদপুর টাওয়ার, ফয়সাল শপিং কমপ্লেক্সে ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দোকানগুলোতে ভিড়। দেখা যায়, মনকাড়া ডিজাইনের বাহারি শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, পাঞ্জাবি, শার্ট, জিন্স, ফতুয়ার খোঁজে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছেন ক্রেতারা। বিভিন্ন মার্কেটের দোকানে দেশি শাড়ির পাশাপাশি দেখা গেলো বিদেশি শাড়ি। এসব শাড়ির দামও একটু বেশি। বিভিন্ন ব্রান্ডের শাড়ির দোকান ঘুরে দেখা গেল ভারতীয়সহ বিভিন্ন নামের পোশাক তুলেছেন বিক্রেতারা। শুধু তাই পোশাকের সাথে ম্যাচিং করে কিনছে জুতা, অলংঙ্কার ও প্রসাধনী।
শহরের জোড় পুকুর পাড় এলাকার মীর শপিং কমপ্লেক্সে দেখা যায়, সকাল থেকেই ঈদের কেনা-কাটা করতে আসা তরুণ-তরুণীসহ নারীদের উপচেপড়া ভিড়। দেখা যায়, দোকানগুলোতে নারীদের জন্য জামদানি সিল্ক, টাঙ্গাইল বুটিকস, কাটিং টাঙ্গাইল, বেনারসী শাড়ি, অ্যাবলিক শাড়ি, বাহারী শাড়ি, গ্যাস জামদানিসহ নতুন নতুন অনেক শাড়ি উঠিয়েছেন ক্রেতাদের জন্য দোকানদাররা। নরমাল থ্রি-পিসসহ ইন্ডিয়ান পোশাকগুলোর মধ্যে প্রত্যেকটির দাম আলাদা। এগুলোর ন্যূনতম দাম ১ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকার উপরে রয়েছে।
বাচ্চাদের ড্রেসের মূল্য ৪শ’ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। তরুণদের পছন্দের পোশাকের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে সার্ট, পাঞ্জাবী, সর্ট পাঞ্জাবী, কাতুয়া, ফতুয়াসহ উন্নতমানের গেঞ্জি ও সার্টসহ ছোট বড় সকল আইটেমের নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক।
এছাড়া উৎসব এলে সৌন্দর্য-সচেতন বাঙালি নারীর রূপচর্চা বেড়ে যায়। মার্কেটগুলোতে ইমিটেশনের গহনা ও প্রসাধনীর বিকিকিনি। সব শ্রেণির নারীর পছন্দের তালিকায় বাসা-বাড়িতে আসা ফেরিওয়ালা ও মার্কেটগুলোর দোকান রয়েছে। চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত রোডস্থ মীর শপিং কমপ্লেক্সে মেয়েদের গহনা বিক্রি হয় বেশ। প্রতিটি দোকানেই দেখা গেছে কানের দুল, আংটি, চুড়ি, নাকফুল, ক্লিপ, চুলের খোপা, ফিতা, রাবার ব্যান্ড, নতুন নকশার চিরুনিসহ অনেক কিছু।
মীর শপিং কমপ্লেক্সের মমতা ক্লথ স্টোরের মেরাজ আহমেদের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমাদের এ মার্কেটে বেশিরভাগ দোকানই জামা-কাপড়, সার্ট-প্যান্ট ও পাইকারি দোকান। রমজানের শুরু থেকে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী তরুণ ও তরুণীদের নতুন নতুন পোশাক দিয়ে দোকান সাজিয়েছেন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।
তিনি আরো বলেন, টাঙ্গাইলের শাড়ি এখনো উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের আকর্ষণের জন্য নানা ডিজাইনের ঐতিহ্যবাহী মসলিন, রাজশাহী সিল্ক, জামদানি, মিরপুরী কাতান, টাঙ্গাইলের সিল্ক, টাঙ্গাইলের কাতান, সুতি, পাবনা কাতান, জুট কটন, জুট কাতান, হাফসিল্কের চাহিদা অনেক বেশি। এসব শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৪শ’ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।
মীর শপিং কমপ্লেক্সের ফাতেমা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. ছোটন বেপারী জানান, রমজানের শুরুতে পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড় থাকলেও আমাদের কসমেটিকসের দোকানে তেমন কোন বেঁচাকেনা হয়নি। তার সাথে পাল্লা দিয়ে নিত্যদিন লেগে রয়েছে গরমের তীব্রতা। ঈদের বাকি আছে আর ৮ দিন। এখন ক্রেতারা পছন্দের পোশাক ক্রয় করে এখন পোশাকের সাথে ম্যাচিং করে হাতের চুরি, কানের দুল, নাকফুল, গলার চেইনসহ বিভিন্ন প্রসাধনী কিনছেন ক্রেতারা। আমাদের দোকানে এবছর উন্নত মানের ইমিটেশনের অলঙ্কার ও প্রসাধনী উঠানো হয়েছে। যার মূল্য ৩০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। রমজানের বাকি দিনগুলো ক্রেতাদের ভিড় ও বেচাকেনা ভালো হবে বলে তিনি আশা করেন।
মীর শপিং কমপ্লেক্সের তামিম সুজের স্বত্বাধিকারী মো. রাজু জানান, ঈদের বাকি আছে আর কয়েক দিন। ক্রেতারা আগে পোশাক কিনে পরে পোশাকের সাথে ম্যাচিং করে জুতা কিনতে আসে। আমাদের দোকানে পুরুষ, নারী ও শিশুদের বাহারী ডিজাইনের জুতা উঠানো হয়েছে। পুরুষের জুতার প্রকারভেদে ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। নারীদের জুতা ৫শ’ টাকা থেকে শুরু করে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। শিশুদের জুতা ৫শ’ টাকা থেকে শুরু করে ১৫ শ’ টাকা পর্যন্ত রয়েছে।