ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে জেলা আ.লীগের আলোচনা

এস এম সোহেল
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। সোমবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ। এসময় তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চে যে ভাষণ দিয়েছিলেন আজ তা বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান পেয়েছে। সারাবিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের জন্য ছিল সেদিনের সে ভাষণ। আমাদের এ স্বাধীনতা অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জন করতে হয়েছে। সবার অবস্থান থেকে সততা নিষ্ঠা ও আন্তরিকাতার সাথে দলের জন্য কাজ করতে হবে। নেত্রী দুর্নীতি ও মাদককে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছন। তাই আমাদের দুর্নীতিবাজদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। যাদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে আসুন সবাই একত্রিত হয়ে দলের জন্য কাজ করি। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে প্রতিহিংসা পরিহার করে দলকে শক্তিশালী করি। আগামি নির্বাচনে যেন চাঁদপুরের ৫টি আসনে আওয়ামী লীগ জয়ী হতে পারে সে লক্ষ্যে সবাই কাজ করুন।
তিনি আরো বলেন, মার্চ মাস বাঙালি জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক মাস। বঙ্গবন্ধু জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দেন। বঙ্গবন্ধুর সেই ১৮ মিনিটের ভাষন জাতিসংঘের ঐতিহ্যে স্থান পেয়েছে। তিনি আমাদের একটি স্বাধীন দেশ, মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা দিয়েছেন। কিন্তু ‘৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বপরিবারে হত্যা করা হয়। সেদিন স্বাধীন দেশকে পরাধীন করতেই জাতির জনককে হত্যা করা হয়।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল তার বক্তব্যে বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার সব দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। দল করি দলের চেইন অব কমান্ড মেনে চলতে হবে। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু প্রতিহিংসা যেন না থাকে। বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতেই ৭ মার্চ। ৭ মার্চ থেকেই বাংলার স্বাধীনতার যাত্রা হয়। পুরো বাঙালি জাতি সেদিন জাতির পিতার ডাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরে। আজকের এ দিনে আমাদের শপথ নিতে হবে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগকে কালো থাবা থেকে রক্ষা করতে হবে। আওয়ামী লীগকে সঠিক রাস্তায় আনতে হবে এবং বাঁচাতে হবে এটাই হোক আমাদের শপথ। জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা কাজ করবো।
তিনি আরো বলেন, আজ সকালে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের সময়ে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার আচরণ সব নেতাকর্মীদের ব্যাথিত করেছে। শ্রদ্ধাঞ্জলিকালে নেতার হাতে ফুল ছাড়া অন্য কিছু থাকার কথা নয়, কিন্তু আমরা কি দেখলাম। সবাই দলের কার্যক্রমে আসবেন, তা নাহলে দল করে লাভ নাই। দলের চেইন অব কমান্ড ভাংগবে আর আমরা বসে বসে আঙ্গুল চুসবো সে রাজনীতি জেলা আওয়ামী লীগ করে না। কোন দুর্বৃত্তের কারণে দলের ক্ষতি হবে তা হতে দেওয়ার হবে না। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে আমাদের একত্রিত হতে হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম মিয়াজীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইঞ্জি. আব্দুর রব ভূঁইয়া, সন্তোষ কুমার দাস, আব্দুর রশিদ সর্দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জহিরুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. রুহল আমিন সরকার, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাড. বিনয় ভূষণ মজুমদার, সদস্য অ্যাড. বদিউজ্জামান কিরন, বেলায়েত হোসেন গাজী বিল্লাল, সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সাবেক সদস্য অ্যাড. জসিম উদ্দিন পাটওয়ারী, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন মন্টু দেওয়ান, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান কালু ভূঁইয়া, মৎসজীবী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক দেওয়ান, জেলা শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুবুর রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পারভেজ করিম বাবু।
আলোচনা সভা শেষে বঙ্গবন্ধুসহ নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়।

০৮ মার্চ, ২০২২।