কচুয়া, ফরিদগঞ্জ ও হাইমচরের ২৯ ইউপিতে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ

স্টাফ রিপোর্টার
কচুয়া, ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর উপজেলার ২৯টি ইউনিয়নে কিছু বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও অপ্রীতিকর ঘটনার মধ্যে দিয়ে বুধবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ পাওয়া যায়, ফরিদগঞ্জের বালিথুবা ইউনিয়নের লোহাগড় প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী বাহাউদ্দিন বাহার ও তার সমর্থকরা জোরপূর্বক এ কেন্দ্রের পুরুষ বুথ-৭ এ’ প্রবেশ করে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কবির আহমেদের কাছ থেকে পশ্চিম বালিথুবা ইউনিয়নের ব্যালট পেপার ৮১, বই নং-৭ ছিনিয়ে নিয়ে ০০৮০৩৭ নম্বর ব্যালট পেপার থেকে শুরু করে ০০৮১০০ পর্যন্ত মোট ৬৪টি ব্যালট পেপারে জাল ভোট প্রয়োগ করেছে। জাল ভোট জোর করে দিলেও সেখানে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও নির্বাচনী সিল দেওয়া হয়নি।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আনারস প্রতিকের প্রাথী জসিম উদ্দিন স্বপনের সর্মথক লোহাগড় মজুমদার বাড়ির মৃত অজিউল্লাহ্ ছেলে (অবসর প্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট) মো. মহরম পাটওয়ারী (৪৮) কে পা’ থেকে মাথা পর্যন্ত পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হলে তাকে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এ কেন্দ্রের আইন-শৃংখলার দায়িত্বে ছিলেন উপ-পরিদর্শক মো. গিয়াস উদ্দিন। পরে অপ্রীতিকর ঘটনার ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন চাঁদপুরে ডিবি পুরিশের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম। তিনি ঘটনার বিস্তারিত প্রশাসনের উবর্ধতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন বলে জানান। এ কেন্দ্রে মোট ভোট হচ্ছে ২২৯০টি। এর মধ্যে পুরুষ ১১৮৭ ও নারী ভোটার রয়েছে ১১০৩টি।
এ ব্যাপারে লোহাগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কবির আহমেদ জানান, দুপুর ১টা পর নৌকা মার্কার প্রার্থী ও তার সমর্থকরা জোর করে আমার কাছ থেকে ০০৮০৩৭ নাম্বার সিরিয়েলের ব্যালট পেপার থেকে শুরু করে ০০৮১০০ পর্যন্ত মোট ৬৪টি ব্যালট পেপার জোর করে নিয়ে জাল ভোট প্রয়োগ করেছে। যার মুড়িগুলো রয়েছে আমার স্বাক্ষর ছাড়া।
এ বিষয়ে এ কেন্দ্রের প্রধান প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রভাষক প্রবীর ভট্টাচার্য্য বলেন, আমাদের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কবির আহমেদের কাছ থেকে জোর করে ব্যালট পেপার নিয়ে নৌকা মার্কার সিল মেরে জাল ভোট প্রযোগ করে। সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তার স্বাক্ষর নেই। ভোট গণনার সময় সীল ও স্বাক্ষর না থাকায় সে ভোটগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে।
এদিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ৫ম ধাপে ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ৭৩জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১২৪জন এবং সাধারন সদস্য ৫১৫জন সহ ৬৯৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
হাইমচরে ৪টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২৩জন, সংরক্ষিত আসনে ৩৪জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ১১৯জনসহ মোট ১৭২জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
কচুয়ায় ১২টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চেয়ারম্যান পদে ৬৬জন, সংরক্ষিত আসনে মহিলা সদস্য পদে ১শ’ ২০জন ও সাধারন সদস্যসহ ৫শ’ ১৯জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ফরিদগঞ্জের বালিথুবা ইউনিয়নের মদনেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লোহাগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সেকদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলেও দুপুরের পর লোহাগড় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৌকা মার্কা প্রাথী ও তার সমর্থকরা এ কেন্দ্রে হামলা চালায় ও ৬৪টি জাল ভোট প্রয়োগ করার পর থেকে এখানে কিছুক্ষণ ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। তারপর পূনরায় আবার ভোটগ্রহণ চলে। মদনেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও ১নং সেকদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিকেলে সরকার দলীয় নৌকা মার্কার সমর্থকরা কেন্দ্রে প্রবেশের চেস্টা টালালে পুলিশ বাধা প্রদান করে। এ সময় তারা পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল নিক্ষেপ করে বলে পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে তাদের উবর্ধতন কর্মকর্তাদের জানালে তাৎক্ষনিক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
চাঁদপুরের ৩টি উপজেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সামান্য কিছু বিশৃংখলার মধ্যেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ৩টি কেন্দ্র ছাড়া কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। র‌্যাব ও বিজিবির টহল ছিল চোখে পড়ার মতো।
সকালে ফরিদগঞ্জে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ। তিনি বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র ঘুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
উপজেলার ২৯টি ইউনিয়নে মোট কেন্দ্রের প্রতিটি কেন্দ্রে ১৭জন আনসার সদস্য ও ৫জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত ছিল।

০৬ জানুয়ারি, ২০২২।