বড়দৈল ও গুতপুর গ্রামে
স্টাফ রিপোর্টার :
কচুয়া উপজেলার পাথৈর ইউনিয়নের বড়দৈল ও গুতপুর গ্রামের কয়েকটি বসতঘরের উপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন যাওয়ায় ঐসব পরিবারগুলোর জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভুগছে পরিবারগুলো। কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে ঐসব পরিবারের লোকজন না পারছে তারগুলো সরাতে, না পারছে স্বস্তিতে থাকতে।
ভুক্তভোগী মো. আবু হানিফ জানান, বিদ্যুতের লাইন নেয়ার সময় আমরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তখন আমরা বলেছিলাম আমাদের বসতঘরের উপরে যেন না পড়ে। লাইন নির্ধারণ করার সময় তারা জানায়, আপনাদের ঘরের উপর পড়বে না। পরে আমরা বাড়িতে না থাকায় লাইনটি টানা হয়। পাশের লোকজন বলার পরেও তারা এ বিষয়ে কর্ণপাত করেনি। আমাদের (১৩নং বড়দৈল মৌজার বিএস ৪০৮নং খতিয়ানভুক্ত- ৭১৩, ৭১৫, ৭১৬, ৭১৯, ৭২০নং দাগে বসবাসরত) বাড়ির মো. জুলফিকার আলী, মো. আবু হানিফ, মো. ইউনুছ ও ছিদ্দিকা বেগমের ঘরের উপর দিয়ে নতুন বিদ্যুতের লাইন টানা হয়। আমরা তখন তাদের জানিয়েছি এখানে বিল্ডিং করবো তারপরও তারা এভাবে বিদ্যুতের লাইন দিয়ে চলে যায়। লাইনটি ঘরের উপর দিয়ে ছাড়া অন্য জায়গা দিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা আছে। পরে আমরা উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ও কনসালটেশন বিভাগে জানাই। তারপরও তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
ভুক্তভোগী মো. শাহ আলম ও মস্ত মিয়া জানান, ১৪নং গুতিপুর মৌজার আমাদের বসতবাড়ির উপর দিয়ে পল্লী বিদ্যুতের লাইনটি নেয়া হয়, যা আমাদের জন্য বিপজ্জনক। বহুবার তাদের জানানো ও দরখাস্ত দেয়ার পরও বিদ্যুৎ লাইন সরানোর কোন ব্যবস্থা করেনি পল্লী বিদ্যুতের লোকজন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বড়দৈল ও গুতপুর গ্রামে রাস্তার উভয় পাশ মিলে বিদ্যুতের লাইনটি বসতঘরের উপর দিয়ে টানা হয়েছে। যা লাইনের তারগুলো টিনের কাছাকাছি এবং বিদ্যুতের পিলারটি ঘরের পাশে অবস্থান। এ অবস্থায় বিদ্যুতের লাইনগুলো বসবাসরত পরিবারের মানুষদের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।
স্থানীয় মুরব্বি জুলফিকার আলী জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের এভাবে একটি বসতঘরের উপর দিয়ে লাইন দেয়া এলাকার জন্য বিপজ্জনক। আমরা আসা করি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অচিরে আমলে নেবে এবং আমাদের এই বিপদ থেকে মুক্তি দেবে।
এলাকার মেম্বার ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা মো. নাছির উদ্দিন জানান, এই লাইনটি ২ বার স্ট্রাকিং সীট করে যার কারণে ভুল হয়েছে। আরো একটি পরিবারও লাইন সরানোর জন্য আবেদন করেছে। আমি চেষ্টা করেছি লাইনটি ঘরের উপর থেকে সরানোর জন্য, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। সবগুলো পরিবার একত্রে জোন অফিসে যোগাযোগ করলে তারা বিদ্যুতের লাইনগুলো সরাতে বাধ্য হবে।
পল্লী বিদ্যুতের কচুয়া জোন অফিস থেকে জানা যায়, এ বিষয় আমরা কোন সমাধান করতে পারবো না। তারা দরখাস্তের মাধ্যমে ডিজিএম জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগ করলে বিষয়টি সম্পর্কে জানা যাবে।
হাজীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস জানায়, এ বিষয় আমাদের জানা নাই। কনসালটেন্ট বিভাগ জানে, তাদের সাথে আলাপ করলে ভালো হবে।
