স্টাফ রিপোর্টার
করোনা সংকটে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে জেলার প্রায় ৪ শতাধিক কিন্ডারগার্টেনের ৪ সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারীরা। বেতনের টাকা না পেয়েই হঠাৎ বন্ধের শিকার এসব শিক্ষক-কর্মচারী। বিপর্যয়ের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন (এফবিকেজি) অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। চাঁদপুর সদরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫ শতাধিক শিক্ষকের নাম-ঠিকানা-মোবাইল নম্বর সংযুক্ত তালিকাসহ মানবিক আবেদন গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।
সারা পৃথিবীর মতো বাংলাদেশও আজ করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত। প্রতিদিনই অনেকে নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন, আবার মারাও যাচ্ছেন অনেকে। এ ভাইরাসের কারণে কম-বেশি সবাই রয়েছেন আতংকিত অবস্থার মধ্যে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ইতোমধ্যে সরকারিভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ।
প্রায় সব কিন্ডারগার্টেন সম্পূর্ণভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের দেয়া মাসিক বেতনের উপর নির্ভরশীল। ব্যক্তি মালিকানা ও সমষ্টিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্টরা বর্তমান সময়ে কঠিন সময় পার করছেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের সবসময়ই ছাত্র-ছাত্রীদের ২/৩ মাসের টাকা বাকি রেখে প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখতে হয়। এমনই অবস্থায় বর্তমানে করোনা সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। এমনকি পবিত্র রমজান মাসেও প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি তা-ই হয়, তাহলে প্রায় ৩-৪ মাস বন্ধের ফলে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রকট আর্থিক সঙ্কটের মুখোমুখি হতে হবে। ফলে স্কুলগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্কুলগুলোতে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা নামমাত্র মাসিক সম্মানী নিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ছোট ছোট সোনামণিদের শিক্ষা দিয়ে থাকেন। তাদের সম্মানীভাতা এতো কম যে, যা সরকারি স্কুল বা সরকারি যে কোনো দপ্তরের একজন কর্মচারীর ১ দিনের বাজার খরচও নয়। এমনি একটি বৈষম্যমূলক পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা বা পরিচালকরা দিশেহারা অবস্থার মধ্য দিয়েই তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান ফেডারেশনের জেলা আহ্বায়ক ও চাঁদপুর শহরের মডার্ণ শিশু একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. ওমর ফারুক।
তিনি বলেন, সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে আর্থিক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কিন্ডারগার্টেনগুলো তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আমরা অহরহ ভর্তুকি নয়তো বাকি রেখে সেবার মান ও স্কুলের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছি। মুজিব শতবর্ষে সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক স্তরের এ প্রতিষ্ঠানগুলোর কষ্টসাধ্য অবস্থান ও বিদ্যমান বৈষম্য অবশ্যই আপত্তিকর।
বর্তমান সরকার প্রাথমিক, মাধ্যমিকসহ সব স্তরে যেই বেতন কাঠামো চালু রেখেছে তা এতোই সন্তোষজনক যে বলাই বাহুল্য। পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেনগুলোতে আরো গতিময়তা সৃষ্টির জন্যে, বিশেষত সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী চাপ কমাতে ও মাধ্যমিকে ভালো শিক্ষার্থী প্রেরণে এই স্কুলের ভূমিকাকে উৎসাহিত করার জন্য শিক্ষকদের আর্থিক প্রণোদনা বা সহযোগিতা দেয়া উচিত মনে করি।
এই স্কুলের শিক্ষকদের অবদানের ধারাবাহিকতায় এসএসসিসহ উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে অনেক ভালো ফলাফল অর্জিত হচ্ছে। প্রতি শ্রেণীতে ২০-২৪ জনের ভর্তি ও আসন, শিক্ষকরা সব বিষয়ে স্কুল প্রশাসনের কাছে সার্বক্ষণিক দায়বদ্ধতা রক্ষা করা, শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি কার্যক্রম, শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহিতা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ। সর্বোপরি পিইসিতে সবার মাঝে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, ঈর্ষণীয় ফলাফল অর্জনে অভিভাবকদের আন্তরিক চেষ্টা এ সাফল্যের কারণ।
সাম্প্রতিক সময়ে কিন্ডারগার্টেনগুলোর আর্থিক অনটন, শিক্ষক-মালিকদের দায়বদ্ধতা নিরসনে জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এস্যোসিয়েশন চাঁদপুর জেলার সদস্য সচিব প্রভাষক মো. মাহফুজ উল্যাহ ইউসূফী।
তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান ভাড়াকৃত ভূমি বা ভবনে গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠান বেশি আর্থিক সংকটে পতিত হয়েছে, ভাড়া বিষয়েও প্রশাসনের কোন সিদ্ধান্ত পেলে স্কুল মালিক পক্ষ উপকৃত হবেন, যা সার্বিক পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
১৯ এপ্রিল, ২০২০।
