কল্যাণপুরের কালীভাংতি ব্রিজটি সংস্কার ও সম্প্রসারণ জরুরি

সজীব খান
কল্যাণপুর ইউনিয়নের কালীভাংতি ব্রিজটির নতুন করে সংস্কারসহ সম্প্রসারণ করার দাবি করেছেন এলাকাবাসী। এলজিইডি’র এ ব্রিজটি দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করার দাবি করেও এখন পর্যন্ত সম্প্রসারণ না হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। কালীভাংতির এ গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি দীর্ঘদিন যাবৎ ঝুঁিকতে নিয়ে যান চলাচলসহ প্রথচারীরা যাতায়াত করছেন। সংকীর্ণ এ ব্রিজটি দিয়ে বর্তমানে যানবাহন চলাচল করতে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সম্মুক্ষীণ হতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা কয়েকবার উপজেলা প্রকৌশলীর দ্বারস্থ হয়েও কোন লাভ হয়নি।
স্থানীয়রা নিজেদের অর্থে সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে অবগত করেও সেখান থেকে সাড়া মেলেনি। এখন ব্রিজটি দ্রুত সংস্কারসহ সম্প্রসারণ না করলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীভাংতি থেকে কল্যাণপুরের রাস্তাটি শুরু হয়ে ইউনিয়নের প্রতিটি সড়কের সাথে সংযুক্ত রয়েছে। অনেক পুরোনো এ ব্রিজটি পুরোনো মডেলের। সড়কটি কয়েক দফা সংস্কার হলেও ব্রিজটি সংস্কারসহ সম্প্রসারণ করা হয়নি। কিন্তু ব্রিজটিকে চওড়া করার কোনও উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। কালীভাংতির অপ্রস্বস্ত সেতু নিয়ে নাকাল হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। ব্রিজটি এতই সংকীর্ণ যে একটা চার চাকা গাড়ি ঢুকলে তার পাশ দিয়ে একটি সাইকেল যাওয়ার রাস্তাটুকুও থাকে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু সম্প্রসারণের ব্যাপারে সড়ক কর্তৃপক্ষ উদাসীন। একদিকে যেমন সেতু চওড়া করা প্রয়োজন। তেমনই আবার পুরোনো ব্রিজটি সংস্কারেরও প্রয়োজন আছে। এ গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে প্রতিনিয়ত শত শত ছোট বড় গাড়ি এবং স্কুল কলেজ মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা যাতায়াত করে। পুরো পথ ঠিকমত আসলেও কালীভাংতিতে এসে এ ব্রিজটির জন্য সবাইকেই একটু প্রতিবন্ধকতার সম্মুক্ষীণ হতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কেন্দ্রিয় যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম শাহীন পাটওয়ারী বলেন, ব্রিজটি দিয়ে একটি গাড়ি পারাপার করলে অন্য গাড়িকে ব্রিজের উল্টো দিকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কে আগে ব্রিজে উঠবে, তা নিয়েও নিত্যদিন গাড়ি চালকদের মধ্যে বচসা বাধে। তাছাড়া ব্রিজটি সরু হওয়ায় পারাপারের সময় বেশ কয়েকবার মোটর বাইকের সঙ্গে ছোট গাড়ির ধাক্কা লাগার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
গাড়ি চালকরা বলেন, ব্রিজটি সরু হওয়ায় যাতায়াতে খুবই সমস্যা হয়। ব্রিজ চওড়া হলে দু’টি গাড়ি এক সঙ্গে যাতায়াত করতে পারবে। এতে আর দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকবে না। এ কারণে পুরোনো ব্রিজ ভেঙে নতুন ব্রিজ তৈরি করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান জানান, ব্রিজটি জরাজির্ণ হওয়ার বিষয়টি স্থানীয়রা আামকে জানিয়েছে। এটা দেকভাল করে স্থানীয় সরকার বিভাগ-এলজিইডি। তাদের সাথে আলাপ করে ব্রিজটি নির্মাণসহ সম্প্রসারণ করার বিষয়টি জরুরিভাবেই দেখা হবে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী স্থেহাল রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তিতে ব্যাক্তিগত টাকা দিয়ে নির্মাণ বা সংস্কার করার সুযোগ নেই। তালিকা দেওয়া হয়েছে, সয়েল টেস্ট এখনো হয়নি। ইমারজেন্সি ফাইলে পাঠিয়ে দিয়েছি, ঢাকা থেকে সয়েল টেস্টের অনুমতি দিলেই সয়েল টেস্ট করে পাঠাবো। অপেক্ষা করতে হবে।

০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।