কাউন্সিলরের মরদেহের খাটিয়া মেয়রের কাঁধে


হাজীগঞ্জের নব-নির্বাচিত কাউন্সিলর কাজী দুলালের দাফন সম্পন্ন

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জ পৌরসভার নব-নির্বাচিত কাউন্সিলর কাজী দুলাল (৫০) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া…..রাজেউন)। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে তিনি শেষ ইন্তেকাল করেন। গতকাল বুধবার দুপুরে হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুল এন্ড কলেজ মাঠে মরহুমের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানাযায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দেরসহ কয়েক শতাধিক স্থানীয় ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করে। কাজী দুলাল গত ২৯ জুলাই পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে ডালিম প্রতীকে ৮০১ ভোট পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এরপর গত ২৬ আগস্ট তিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছ থেকে শপথ শেষে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
মাত্র ২৮ দিন কাউন্সিলর পদে দায়িত্ব পালন করে কাজী দুলাল মঙ্গলবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ওই ওয়ার্ডের কাজী বাড়ির মরহুম মেসবাহ উদ্দিন মেন্দু কাজীর ছেলে। মৃত্যুকালে তার দুই স্ত্রী, এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে সন্তান রেখে গেছেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নিজগৃহে হৃদরোগে আক্রান্ত হন কাজী দুলাল। পরে তাকে হাজীগঞ্জ বাজারের বিসমিল্লাহ জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে কাউন্সিলরের মৃত্যুতে পৌরসভার অন্যান্য কাউন্সিলর এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে গভীর শোক ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন হাজীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন।
নিহত কাউন্সিলর কাজী দুলালের জানাযা শেষে তার খাটিয়া কাঁধে বহন করে কবরস্থান পর্যন্ত নিয়ে যান পৌর মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন। এ সময় ভারাক্রান্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ পরিষদের মেয়াদে তিনজন কাউন্সিলর ও একজন সংরক্ষিত কাউন্সিলরসহ মোট চারজন কাউন্সিলর মৃত্যুবরণ করেন।
উল্লেখ্য, গত ৩১ শে মার্চ পৌর ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও রাজনীতিবিদ মো. আবুল কাশেম (৫৫) অসুস্থতাজনিত কারণে মারা করেন। যার ফলে গত ২৯ জুলাই ওই ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে কাজী দুলাল প্রত্যক্ষ ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
কাজী দুলাল চট্টগ্রাম বিভাগীয় মাদক কারবারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গত জুলাই মাসে তিনি চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরবর্তীতে তিনি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে উপ-নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে সবার নজর কেড়ে নেন। মাত্র তিন মাসের মধ্যে কাজী দুলাল জনসাধারণের মন জয় করতে সমর্থ হন এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা করেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এ ওয়ার্ডটি আবারো প্রতিনিধি শূন্য হয়ে পড়ে।

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯।