কারাগারে বিএনপি নেতা আলম খানের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর জেলা কারাগারে থাকা এনআই এ্যাক্টের সাজাপ্রাপ্ত ৫ মামলার আসামি চাঁদপুর পৌর ১৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আলম খাঁন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি…….রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো প্রায় ৫১ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ও ১ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সোমবার (৫ জুন) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আলম খান চাঁদপুর শহরের খলিশাডুলি ওয়াবদা গেট খান বাড়ির হাজি শামসুল হক খাঁনের ছেলে। তিনি পৌর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন।
চাঁদপুর জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. ইউসুফ জানান, সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে আলম খাঁন অসুস্থবোধ করলে সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি এবং তার পরিবারের সদস্যদের জানাই। পরিবারের সদস্যরাও তাৎক্ষণিক হাসপাতালে আসেন।
আলম খাঁনের বাবা শামসুল হক খাঁন জানান, আইএফআইসি ব্যাংকে তার ছেলের সাড়ে ৩ কোটি টাকার ঋণ ছিল। কিন্তু ঋণের চাইতে বেশি টাকার মর্গেজও ছিলো ব্যাংকে। তারপরও মামলার কারণে তার সাজা হয়। ছেলের মৃত্যুতে তিনি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সুশান্ত বিশ্বাস জানান, আলম খান নামে ব্যাক্তির ইসিজি করে দেখা গেছে, তার বড় ধরনের হার্ট এ্যাটাক হয়েছে। তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তিনি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
চাঁদপুর জেলা কারগারের জেলার (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মুনীর হোসাইন বলেন, গত ২১ এপ্রিল এনআই এ্যাক্টের ৫ মামলার আসামি সাজার পরোয়ানা নিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। সোমবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটের দিকে বুকে ব্যাথায় আক্রান্ত হয়ে পড়লে কারাগারের সহকারী সার্জনের পরামর্শক্রমে সোয়া ৮টার দিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক মৃত্যুর প্রমাণপত্রে মৃত্যুর কারণ ‘এমআই কার্ডিয়োজেনিক শক’ উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

০৬ জুন, ২০২৩।