জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল
কুমিল্লায় প্রকাশ্যে গুলি করে কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও ওয়ার্ড শ্রমিক লীগ সভাপতি হরিপদ সাহা হত্যা মামলায় এজহারনামীয় আসামি পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত নিহতদের লাশ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একটি কক্ষে তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছে। পুলিশের এসআই নূরুল আলম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কুমিল্লা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের রেজিস্টার সূত্রে জানা যায়, নিহতরা হলেন- জোড়া খুনের মামলার ৩নং আসামি মো. সাব্বির হোসেন ও ৫নং আসামি সাজন।
নিহত সাব্বির হোসেন, নগরীর সোজানগর এলাকার রফিক মিয়ার ছেলে এবং নিহত সাজন নগরীর সংরাইশ এলাকার কাকন মিয়ার ছেলে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে কাউন্সিলর সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ রায়ের হত্যা মামলার এজহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা সংরাইশ এবং নবগ্রাম এলাকায় অবস্থান করছে। এমনই এক সংবাদের ভিত্তিতে কোতয়ালি মডেল থানা এবং ডিবি পুলিশের একাধিক টিম আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা শুরু করে।
রাত পৌনে ১টার দিকে গোমতী নাদীর সংরাইশ বালুমহাল সংলগ্ন নদীর বেড়িবাঁধের কাছে জেলা গোয়েন্দা ও থানা পুলিশের টিম পৌঁছালে আসামিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি করতে থাকে। উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা নিজেদের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। গোলাগুলির একপর্যায়ে কয়েকজন দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যায়। গুলিবর্ষণ শেষে ঘটনাস্থলে দুইজন ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরবর্তীতে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থলে সন্ত্রাসিদের ছোড়া গুলিতে পুলিশের তিনজন সদস্য আহত হয়। আহত পুলিশ সদস্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পুলিশ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ঐ স্থান হতে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত একটি ৭.৬৫ পিস্তল, একটি পাইপ গান, পিস্তলের অব্যবহৃত গুলি, গুলির খোসা এবং কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়।
সরকারি কাজে বাঁধা, হত্যা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার সংক্রান্তে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।
০১ ডিসেম্বর, ২০২১।
