
স্টাফ রিপোর্টার
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেছেন, মাদকের কুফল সম্পর্কে জানেন না এমন কেউ নেই। আগে পায়রা দিয়ে চিঠি পাঠানো হতো। এখন পায়রার মাধ্যমে মাদক পাচার করা হয়। এছাড়া বহু অভিনব কায়দা অবলম্বন করে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়। মাদক প্রতিরোধে পুলিশ, বিজিবি, প্রশাসন সকলেই কাজ করছেন। এরপরও মাদক নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও মাদক নির্মূল করতে কাজ অব্যাহত রেখেছি। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদক নিয়ন্ত্রণ করছে এবং প্রত্যেক জেলায় তাদের কার্যক্রম সক্রিয় রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসন ও চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ক্ষতি ছাড়া মাদকের সুফল আছে, এমন কোন দিক নাই। শাস্তি দিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমি নিরাপদ থাকলে সমাজ নিরাপদ এমন ধারণা সঠিক নয়। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
তিনি নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, বন্ধুদের মাধ্যমে মাদক সেবনের সূচনা হয়। তাই বন্ধু নির্বাচন করার ক্ষেত্রে তোমাদের সচেতন হতে হবে। মাদক কারবারীরা তরুণ প্রজন্মকেই তাদের টার্গেট হিসেবে বেছে নেয়। আজকের এই সভাতে মাদকের ভয়াবহতা থেকে ফিরে এসেছে এমন একজন উপস্থিত থাকলে তার কাছে জানা যেত এর কুফল সম্পর্কে।
তিনি আরো বলেন, ২০১৮ সালে সরকার মাদক বিরোধী আইন পাস করেছে। এই আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বাস্তবায়নের জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। ইসলাম ধর্মে যেমন মাদক নিষিদ্ধ, তেমনি আমাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে মাদক নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান শরীফের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক এমআর ইসলাম বাবুর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মোহাম্মদ আফজাল হোসেন, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামছুজ্জামান, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান।
আলোচনা সভার আগে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাও. মো. আবু সাঈদ।
এর আগে জেলা মাদকদ্রব্য অধিপ্তরের সামনে অতিথিবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটেন অতিথিবৃন্দ। পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অফিস প্রাঙ্গণ থেকে চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়ক হয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয় গিয়ে শেষ হয়।
